ডিবি পরিচয়ে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়ের সময় ধরা

সুরমা টাইমস ডেস্কঃ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে সৌদি প্রবাসীকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় রেজাউল করিম ওরফে রানা নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাজীপাড়াস্থ জেলা ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে রানাকে আটক করা হয। অপহৃত সফিকুল ইসলাম ও মামলার বাদী জহিরুল ইসলাম জানান, রেজাউল করিম নিজেকে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বলে দাবি করেছেন।
যদিও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, রেজাউল করিম ওরফে রানা নামে ছাত্রলীগের কোনো সহসভাপতি নেই।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে সরাইল উপজেলার বছিউড়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। মামালায় ছাত্রলীগ কর্মী রেজাউল করিম, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শহরের পাইকপাড়ার অনিক পাল, পাভেল মিয়া এবং মো. শান্তকে আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় অপহণের শিকার সফিকুল ইসলাম জেলা শহরের কাউতলীর দিকে যাচ্ছিলেন। শহরের অবকাশ এলাকায় পৌঁছলে একটি মোটরসাইকেলে তিন অপহরণকারী তার গতিরোধ করে নিজেদের ডিবির পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেন। তারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সফিকুলকে গ্রেপ্তারের জন্য এসেছেন বলে জানান।

কিছুক্ষণ পর অন্য একজন মটরসাইকেলে আরেকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনিও নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দেন। পরে অপহরণকারীরা সফিকুলকে অবকাশের বিপরীতে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যায়। আর সফিকুলের কাছে অস্ত্র আছে বলে অপহরণকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

এক পর্যায়ে সফিকুলের কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন রেজাউল করিম। এ পরে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়। সকালে সফিকুল মুক্তিপণের টাকার জোগাড় করতে মুঠোফোনে চাচাতো ভাই মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি একসময় মনিরকে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বার টাকা পাঠাতে বলেন অথবা টাকা সরাসরি পৌঁছে দিতে বলেন।

পরে আবার মুঠোফোনে মুক্তিপণের দুই লাখ টাকা নিয়ে জেলা শহরের কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠে আসলে বলেন সফিকুল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মনিরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশকে অবহিত করে।

সদর থানা পুলিশ কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে রেজাউল করিমকে আটক করে।

সদর থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে অপহৃত সফিকুলের পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হয়েছে।
মামলার রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open