হাজারো বিশেষণে আমি বেতালা হবো না-প্রধানমন্ত্রী

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: নানা বিশেষণে ভূষিত করা হলেও নিজের ওপরে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হাজারও বিশেষণ দিলেও আমার মাথা কখনও খারাপ হবে না। আমি কখনও বেতালা হবো না। বিশেষণ আমার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না।’

আজ বুধবার (১৭ই জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে ফখরুল ইমাম তার সম্পূরক প্রশ্নে বিভিন্ন দেশ ও গণমাধ্যমের রেফারেন্স দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিশেষণে ভূষিত করেন।

এই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যতই বিশেষণ দেওয়া হোক, আমার ওপর প্রভাব পড়ে না। আমি শুধু একটাই চিন্তা করি, দেশের মানুষ পেটপুরে খেতে পারছে কিনা? চিকিৎসা পাচ্ছে কিনা? প্রতিটি মানুষকে ঘর দিতে পারছি কিনা? প্রতিটি ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে পারছে কিনা? লেখাপড়া শিখতে পারছে কিনা? আমি এটুকু বলতে চাই কী পাইনি, তার হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি। কী পেলাম আর পেলাম না, সেই হিসাব করি না। কী পেলাম সেই হিসাবও কষি না। কাজ করি মানুষের জন্য। মানুষের কল্যাণের জন্য।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যের কিছু রেফারেন্সের প্রতি সমর্থন করে সরকার প্রধান বলেন, ‘একটা কথা ঠিকই বলেছেন- অনেকে মনে করেন, আমি থাকলে দেশে মুক্তবুদ্ধির চিন্তার সুযোগ হবে। কিন্তু এমনও একশ্রেণি আছে- যারা ভাবে আমি থাকলেই তাদের যত সমস্যা। একমুখে বিশেষণ দেবে, আবার ঊনিশ থেকে বিশ হলেই ওই মুখে গালিও দেবে। যে হাতে মালা দেবে সেই হাতে ঢিলও মারবে। সেটাও আমার জানা আছে। সেটা নিয়েও চিন্তা করি। আমার চিন্তা মানুষের জন্য কতটা করতে পেরেছি। তাদের জীবনের কতটা উন্নতি করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি উচ্চবিত্তদের জন্য চিন্তা করি না। চিন্তা করি তৃণমূল মানুষের জন্য। যাদের জীবন মাটির সঙ্গে মিশে আছে। যারা প্রতি নিয়ত জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে, তাদের কথা চিন্তা করি। তাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, তাদের জন্য একটু সুযোগ করে দেওয়া। মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। মানুষ শান্তিতে আছে কিনা, মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে কিনা? এটাই আমার চিন্তা।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাকে সমর্থন করে। আমি নিজের জীবনের পরোয়া করি না। ভয়ভীতি কাজ করে না। যেটা আমার আদর্শ ও চিন্তা- যেটা আমি করতে চাই, সেটাই করার চেষ্টা করি। এজন্য আমার ওপর বুলেট, গুলি, গ্রেনেড, বোমা হামলা, বড় বড় বোমা পুঁতে রাখা, অনেক চেষ্টার পরেও আল্লাহ কিভাবে- কিভাবে বাঁচিয়ে নিয়ে আসে। বোধ হয় আল্লাহ কিছু কাজ দিয়ে দেন, সেই কাজ যতদিনে শেষ না হবে, ততদিন রক্ষা করবেন। আর যখন কাজ শেষ হবে, চলে যাবো। আর মরতে তো একদিন হবেই। ওটা নিয়ে আমার কোনও চিন্তা নেই। জন্মিলে তো মরিতে হবেই।’

Sharing is caring!

Loading...
Open