গোলাপগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ!

নিজস্ব প্রতিনিধি:: গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিন দত্তরাইল গ্রামে রহস্যজনকভাবে মারা যাওয়া বিশ্বনাথের মেয়ে প্রিয়াংকা রাণী দেবের (২৪) পরিবারের দাবী তাদের মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করেনি।

এ ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছে না জানিয়ে গতকাল বৃহষ্পতিবার বিশ্বনাথের স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ তুলে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের দাবী জানান, প্রিয়াংকার হতভাগ্য পিতা দিলীপ দেব।

প্রিয়াংকার পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১২ই অক্টোবর গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামের অরুণ দেবের ছেলে দুবাই প্রবাসী টিটন কুমার দেবের সাথে বিয়ে হয় বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের জানাইয়া গ্রামের দীলিপ কুমার দেবের একমাত্র মেয়ে প্রিয়াংকার দেবের। বিয়ের আনুমানিক ৬ মাস পরেই দুবাই পাড়ি জমান টিটন দেব। অভি দেব নামে তাদের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। টিটন দেব বিদেশ যাবার পর থেকেই শ্বাশুড়ী সাথী রানী দেব ও ননদ মিতা রানী দেবর রোষানলে পড়েন প্রিয়াংকা। তারা প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক-নির্যাতন করতো। এগুলো সবসময়ই প্রিয়াংকা তার বাপের বাড়ীর লোকজনকে অবহিত করত। এসব কারণে, এখানে বেড়াতে এলে স্বামীর বাড়ী ফিরতে চাইতো না সে। সর্বশেষ, ০১লা জানুয়ারী রাত আনুমানিক নয় ঘটিকায় প্রিয়াংকা তার মাকে মোবাইলে ফোন করে জানায় যে তার শ্বশুড় বাড়ীর লোকজন তাকে অমানবিক নির্যাতন করছে ,তারা (প্রিয়াংকার বাবা মা) এসে যেন তাকে নিয়ে যায়। এটাই ছিলো প্রিয়াংকার শেষ আকুতি। এর পরই গত ২রা জানুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে টিটনের ভাই উজ্জল কুমার দেব মোবাইল ফোনে প্রিয়াংকার গুরুতর অসুস্থতার খবর দেয়। খবর পেয়ে তার পিতা-মাতা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, তাদের মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। তাদেরকে ‘গত মঙ্গলবার ভোরের দিকে প্রিয়াংকা আত্মহত্যা করেছে’ বলে তারা জানায়।

দিলীপ জানান, গত ২২শে ডিসেম্বর দুবাই থেকে দেশে আসে তার মেয়ে জামাই টিটন দেব। আসার পর থেকেই তার মেয়ের উপর তার পরিবারের লোকজন নানা অত্যাচার-নির্যাতন করছিল। ঘটনার আগের দিন রাতেও তাকে নির্যাতন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে তারা আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে গামছা পেচাঁনো অবস্থায় ঘরের তীরের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। অথছ তার পায়ের নীচে কোনো কিছু ছিল না। উদ্ধার করার সময় তার পা মাটিতে লাগানো ছিল। প্রিয়াংকা দীর্ঘ চাঁর বছর যাবৎ শ্বশুড় বাড়ীর লোকদের নির্যাতন সহ্যকরে যাচ্ছে একমাএ তার ফুটফুটে নিষ্পাপ ছেলের মুখের দিকে তাঁকিয়ে,প্রিয়াংকা আত্মহত্যা করতে পারেনা,এ ঘটনায় একটি মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী সাংবাদিকদের বলেন, লাশের পোস্টমর্টেম হয়েছে তবে, এখনও রিপোর্ট পাইনি। যেহেতু প্রিয়াংকার পরিবার অভিযোগ করছে, সেহেতু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open