ঘুষের টাকাসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ঘুষের ২ লাখ টাকাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক নাজমুল কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক। তার অফিসের ড্রয়ার থেকে ঘুষের দুই লাখ ছাড়াও আরো কিছু টাকা উদ্ধার হয়েছে।

অভিযোগ, যশোরে একটি দেশী মদের দোকানির লাইসেন্স নবায়ন বাবদ উপ-পরিচালক কবির ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দুই লাখে রফা হয়। বুধবার বিকাল ৩টার কিছু সময় পর দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক সেই দুই লাখ টাকা উদ্ধার করে মাদকদ্রব্যের ডিডি-কে গ্রেপ্তার করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার।

তিনি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, যশোর শহরের বাসিন্দা শেখ মহব্বত হোসেন টুটুল নামে এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদন নিয়ে নাভারনে বাংলা মদের ব্যবসা করেন। গত জুন মাসে তিনি তার লাইসেন্স নবায়নের জন্য যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের দপ্তরে আবেদন করেন।

সরকারী নবায়ন ফি প্রদানের পর গত ৬ মাস উপ পরিচালক তার লাইসেন্স নবায়ন না করে টালবাহনা শুরু করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশেরের উপপরিচালক মো. নাজমুল কবির ওই ব্যবসায়ীর লাইসেন্স প্রায় ৬ মাস আগে নিজের হেফাজতে নেন। তিনি লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টুটুল অফিস খরচ বাবদ ১ লাখ টাকা দেন। কিন্তু তার পরও উপ পরিচালক তার লাইসেন্স নবায়ন না করে ঘুরাতে থাকে।

এদিকে ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মহব্বত হোসেন টুটুল যার পরনায় ফের উপপরিচালকের দ্বারস্থ হন। পরে আরো ২ লাখে রফা হয়। চুক্তিমোতাবেক বুধবার দুপুরে টুটুল ঘুষের ২ লাখ টাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর অফিসে এসে উপপরিচালক মো. নাজমুল কবিরের কাছে তা হস্তান্তর করেন। নাজমুল কবির ওই টাকা রাখেন নিজ ড্রয়ারে।

খবর পেয়ে বিকাল ৩টার কিছু সময় পর দুদক ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের একদল কর্মী হানা দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর অফিসে। যশোর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত ওই অফিসে দুদকের অভিযান চলাকালে এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এবং পুলিশ সদস্যরাও সেখানে হাজির হন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর বলেন, আমার উপস্থিতিতে দুদক কর্মকর্তারা ওই অফিসে অভিযান চালান। উপপরিচালকের ড্রয়ার থেকে তখন ঘুষের ২ লাখ টাকা উদ্ধার হয়। গ্রেফতার করা হয় উপপরিচালক নাজমুলকে।

দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। অফিসে ঢুকে প্রথমেই উপপরিচালকের ড্রয়ারের চাবি নেওয়া হয়। ড্রয়ার খুলে দুই বান্ডিলে ২ লাখসহ আরো কয়েক বান্ডিল টাকা পাওয়া যায়। সোর্সের দেওয়া নাম্বার মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, দুই বান্ডিলের ২ লাখ টাকা মদ ব্যবসায়ী শেখ মহব্বত হোসেন টুটুলের দেওয়া ঘুষ। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে উপপরিচালক নাজমুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে দুদক বাদী হয়ে যশোর কোতয়ালী থানায় মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে তাকে কোতয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন দুদক টিম। কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আজমল হুদা বলেন, দুদকের মামলার বিষয়ে আসামীকে জিঙ্গাসাবাদ করা হচ্ছে। আগামীকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open