জামালগঞ্জে হাওরের জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করলেন হ্যাপ’র প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাগনার হাওরের জলাবদ্ধতা ও হাওরের বিভিন্ন বেড়িবাঁধের স্থান পরিদর্শন করেছেন হাওর অ্যাডভোকেসি প্লাটফর্ম (হ্যাপ)-এর প্রতিনিধি দল।

গতকাল শুক্রবার (২৯শে ডিসেম্বর) দিনব্যাপী জামালগঞ্জের ফেনারবাঁকের ইউনিয়ন ও দিরাইয়ের রফিনগর ইউনিয়নের পাগনার হাওরের বিভিন্ন স্লুইসগেইট বেড়িবাঁধ বিভিন্ন আপার বাঁধ।

ফেনারবাঁকের গজারিয়া স্লুইসগেইট, গজারিয়া ক্লোজার, কাইল্লানী, বোগলাখালী, ডালিয়ার স্লুইসগেইটসহ বিভিন্ন বাঁধ ও আপার বাঁধ। স্থানগুলো পরিদর্শনের সময় হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন প্রতিনিধি দলের কাছে।

হ্যাপ’র প্রতিনিধি দলে ছিলেন হাওর অ্যাডভোকেসি ফ্লাটফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশ্লেষক শরিফুজ্জামান শরীফ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, পানি ও বাঁধ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সর্দার আমিন।

এসময় গাজী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি অ্যাড. খলিলুর রহমান, স্থানীয় গণমাধ্যম ও হাওর উন্নয়নকর্মী আকবর হোসেন প্রমুখ।

জলাবদ্ধতার বিষয়ে আমানীপুরের কৃষক মঙ্গল মিয়া ও আবারক হোসেন বলেন- আমরা অতীতেও হাওরের বাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছি, এবারও পানি নিষ্কাশনে কাজ করছি। আমরা হাওরের বাঁধের কাজ আর স্বেচ্ছাশ্রমে কত করবো, বার বার আমাদের ফসলহানি হচ্ছে। ফসলের মায়ায় আমরাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষরা বাঁধে পড়ে থাকি।

স্থানীয় লক্ষ্মীপুর গ্রামের গণমাধ্যমকমী দিল আহমেদ জানান- প্রথমে পানি নিষ্কাশনে এলাকার কৃষকেরা কাজ করেছে স্বেচ্ছাশ্রমে। এ বিষয়ে আজ শনিবার (৩০শে ডিসেম্বর) লক্ষ্মীপুরে মিটিং ডেকেছে ফেনারবাঁকের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন- ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে আগে নদী দিয়ে পানি নামতো, এখন বিভিন্ন ধাতব পদার্থ, বালু, কালো মাটি নামে। এগুলো আমাদের নদীর তলদেশে ভরে গেছে। তাই নদী দিয়ে পানি চলাচল কমে গেছে। তাছাড়া বেশি করে গাছ কাটার ফলে পরিবেশ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।

পানি ও বাঁধ বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সর্দার আমিন বলেন- কাজ হচ্ছে অপরিকল্পিত, এভাবে চলতে থাকলে দিন দিন আরো ক্ষতিতে পড়বে কৃষক পরিবারগুলো। এখন থেকে পরিকল্পনা করে হাওরের বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেইটগুলোর কাজ করতে হবে।

হাওর অ্যাডভোকেসি ফ্লাটফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশ্লেষক শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন- গেল বার বাঁধের কাজ চলাকালীন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বাঁধ ও হাওরডুবির পর আবারো ঘুরেছি বিভিন্ন গ্রামে। এখন থেকেই আমাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন চাই। নদীখনন, স্লুইসগেইটগুলো কার্যকর, বেড়িবাঁধ ও আপার বাঁধগুলো স্থায়ীকরণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককের সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়গুলো তুলে ধরবো।

উল্লেখ্য, জলাবদ্ধতা নিরসনে সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় পাগনার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা বোরো মৌসুমের ফসল ফলাতে নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে পাগনার হাওরের পশ্চিম দক্ষিণ পাড়ের ডালিয়া স্লুইসগেইট সংলগ্ন ক্লোজারের নিকট, শমিপুরের সামনের কাড়া, ফুলিয়া টানাসহ কয়েকটি অংশে কাজ করেছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open