রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন!


সুরমা টাইমস ডেস্ক ঃঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দাবিদারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা দাবিদার মজমিল আলী (৭৫) ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া…..রাজিউন।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, মজমিল আলীকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সবাই জানতেন। তবে মৃত্যুর পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন না করায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মজমিল আলীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার পিতা মজমিল আলী একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার পিতাকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিক অধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী ও মেজর মোতালিবের চিঠি সহ বিভিন্ন কাগজ পত্র থাকা সত্বেও স্থানীয় কিছু সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের অসহযোগিতার কারণে আমার পিতার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত হয়নি। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। তবে আমার পিতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য অনেক অপেক্ষা করে অবশেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই স্থানীয়ভাবে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল কাইয়ূম বলেন, মজমিল আলী মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাণীগঞ্জ বাজারে শান্তি কমিটির আহবানে পাক বাহিনী কর্তৃক হত্যা যজ্ঞের ঘটনায় শতাধিক জনতা শহীদ হন এবং অনেকে আহত অবস্থায় বেঁচে গিয়ে ছিলেন। এ সময় মজমিল আলী পঙ্গু হয়ে ছিলেন। তবে তিনি কোথাও মুক্তিযুদ্ধ করেননি।

Sharing is caring!

Loading...
Open