বাংলার গৌরব ৭ বীরশ্রেষ্ঠের আত্মত্যগের কাহিনী…….

নিজস্ব প্রতিবেদক:: ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই দেশের কোনো যোদ্ধাকে আলাদা করে মূল্যায়ন করা কঠিন। কিন্তু এদের মধ্যেও সাত জনের নাম চির ভাস্বর থাকবে। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই সাত জনকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দিয়ে সম্মান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

১৯৭৩ সালের ১৫ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই খেতাবপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ দেয়া হয় সাত জনকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীর উত্তম দেয়া হয় ৬৮ জনকে, তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীর বিক্রম দেয়া হয় ১৭৫ জনকে এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীর প্রতীক দেয়া হয় ৪২৬ জনকে।

বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দেয়া হয় যে সাত জনকে তার মধ্যে ছয় জন যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হয়েছেন। আর একজন পাকিস্তান থেকে বিমান ছিনতাই করে যুদ্ধে যোগ দেয়ার চেষ্টাকাল শহীদ হয়েছেন।
বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নিজেকে দেশের জন্য উৎর্সগ করেছেন আমাদের দেশের অসীম সাহসী কিছু মানুষ। তাঁদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসীকতার জন্য যে ৭ জন শহীদকে বাংলাদেশ সরকার বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করেছেন তাঁদের আত্মত্যগের কাহিনী নিম্নে বর্ণনা করা হলো।
১) বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল:-

১৯৭১ সালের ১৬ই এপ্রিল চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিশ্চিহ্ন করতে কুমিল্লা-আখাউড়া রেললাইন ধরে উত্তর দিকে এগোতে থাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ১৭ই এপ্রিল ভোরে পাকিস্তানি বাহিনী দরুইন গ্রামে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান মর্টার ও আর্টিলারির গোলাবর্ষণ শুরু করে। এ সময় ইস্ট বেঙ্গলের মেজর শাফায়াত জামিল ১১ নম্বর প্লাটুনকে দরুইন গ্রামে আগের প্লাটুনের সাথে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন। ১১ নম্বর প্লাটুন নিয়ে হাবিলদার মুনির দরুইনে পৌঁছেন। সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল তার নিকট থেকে গুলি নিয়ে নিজ পরিখায় অবস্থান গ্রহণ করেন।

বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় শত্রুর গোলাবর্ষণ। সেই সময়ে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সাড়ে ১১টার দিকে মোগরা বাজার ও গঙ্গা সাগরের দিকে শত্রুর অবস্থান থেকে ভারী গুলি বর্ষিত হতে থাকে। ১২ টার দিকে আসে পশ্চিম দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ। কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মোস্তফা কামাল পাল্টা গুলি চালাতে থাকেন।

এ সময় তাঁর পূর্ব দিকের সৈন্যরা পেছনে সরে নতুন অবস্থানে সরে যেতে থাকে এবং মোস্তফাকে যাবার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তাদের সবাইকে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মোস্তফা পূর্ণোদ্যমে এলএমজি থেকে গুলি চালাতে থাকেন। তাঁর ৭০ গজের মধ্যে শত্রুপক্ষ চলে এলেও তিনি থামেননি। এতে করে শত্রু রা তাঁর সঙ্গীদের পিছু ধাওয়া করতে সাহস পায়নি। এক সময় গুলি শেষ হয়ে গেলে শত্রুর আঘাতে তিনিও লুটিয়ে পড়েন মোস্তফা কামাল।

২) ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ:-

১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নং সেক্টরে যোগ দেন এই বীর যোদ্ধা। যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে যুদ্ধ করেন তিনি। ৫ই সেপ্টেম্বর সুতিপুরে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচ জনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রল পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলে গুলি করতে থাকে।

পেছনে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা থেকে পাল্টা গুলি করে। তবু পেট্রল দলটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। এক সময়ে সিপাহী নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূর মোহাম্মদ নান্নু মিয়াকে কাঁধে তুলে নেন এবং হাতের এলএমজি দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করলে শত্রুপক্ষ পিছু হটতে বাধ্য হয়। হঠাৎ করেই শত্রুর মর্টারের একটি গোলা এসে লাগে তাঁর ডান কাঁধে।

ধরাশয়ী হওয়া মাত্র আহত নান্নু মিয়াকে বাঁচানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেন নূর মোহাম্মদ। হাতের এলএমজি সিপাহী মোস্তফাকে দিয়ে নান্নু মিয়াকে নিয়ে যেতে বললেন এবং মোস্তফার রাইফেল চেয়ে নিলেন। তার লক্ষ্য ছিল যতক্ষণ না তাঁরা নিরাপদ দূরুত্বে সরে যেতে সক্ষম হন ততক্ষণ ওই রাইফেল দিয়ে শত্রুসৈন্য ঠেকিয়ে রাখবেন এবং শত্রুর মনোযোগ তাঁর দিকেই কেন্দ্রীভুত করে রাখবেন। অন্য সঙ্গীরা তাদের সাথে অনুরোধ করলেন যাওয়ার জন্যে। কিন্তু তাঁকে বহন করে নিয়ে যেতে গেলে সবাই মারা পড়বে এই আশঙ্কায় তিনি রণক্ষেত্র ত্যাগ করতে রাজি হলেন না।

নূর মোহাম্মদকে রেখে সরে যেতে পারলেন বাকিরা। এদিকে সমানে গুলি ছুড়তে লাগলেন রক্তাক্ত নূর মোহাম্মদ। একদিকে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানি সেনা, অন্যদিকে মাত্র অর্ধমৃত সৈনিকের সম্বল একটি রাইফেল ও সীমিত গুলি। এই অসম অবিশ্বাস্য যুদ্ধে তিনি শত্রুপক্ষের এমন ক্ষতি করেন যে তারা এই মৃত্যুপথযাত্রী যোদ্ধাকে বেয়নেট দিয়ে বিকৃত করে চোখ দুটো উপড়ে ফেলে পাকিস্তানি সেনারা। পরে সহযোদ্ধারা পাশের একটি ঝাড় থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই বীরসেনাকে যশোরের কাশিপুর গ্রামে সমাহিত করা হয়।

৩) বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর:-

১০ই ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর, লেফটেন্যান্ট কাইয়ুম, লেফটেন্যান্ট আউয়াল ও ৫০ জনের মতো মুক্তিযোদ্ধা চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশ্চিমে বারঘরিয়া এলাকায় অবস্থান নেন। ১৪ই ডিসেম্বর ভোরে মাত্র ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বারঘরিয়া এলাকা থেকে ৩/৪ টি নৌকায় করে রেহাইচর এলাকা থেকে মহানন্দা নদী পার হন। এর পর উত্তর দিক থেকে একটি একটি করে প্রত্যেকটি শত্রু অবস্থানের দখল নিয়ে দক্ষিণে এগোতে থাকে দলটি।

ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর এমনভাবে আক্রমণ পরিকল্পনা করেছিলেন যেন উত্তর দিক থেকে শত্রু নিপাত করার সময় দক্ষিণ দিক থেকে শত্রু কোনকিছু আঁচ করতে না পারে। এভাবে এগুতে থাকার সময় জয় যখন প্রায় সুনিশ্চিত তখন ঘটে বিপর্যয়। হঠাৎ ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সের ৮/১০ জন সৈনিক দৌড়ে চর এলাকায় এসে যোগ দেয়। এরপরই শুরু হয় পাকিস্তান বাহিনীর অবিরাম ধারায় গুলি। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর জীবনের পরোয়া না করে সামনে এগিয়ে যান। ঠিক সেই সময়ে শত্রুর একটি গুলি এসে বিদ্ধ হয় জাহাঙ্গীরের কপালে। শহীদ হন তিনি।

৪) বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ:-

মুন্সি আবদুর রউফ অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি কোম্পানির সাথে বুড়িঘাটে অবস্থান নেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি জলপথ প্রতিরোধ করার জন্য ৮ই এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডো ব্যাটেলিয়নের দুই কোম্পানি সৈন্য, সাতটি স্পিড বোট এবং দুটি লঞ্চে করে বুড়িঘাট দখলের জন্য অগ্রসর হয়। তারা প্রতিরক্ষি বুহ্যের সামনে এসে মর্টার এবং অন্যান্য ভারী অস্ত্র দিয়ে গোলা বর্ষণ শুরু করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সেনারা পেছনে সরে বাধ্য হয়। কিন্তু ল্যান্সনায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ পেছনে হটতে রাজি ছিলেন না। নিজ পরিখা থেকে মেশিনগানের গুলিবর্ষণ শুরু করেন। এই পাল্টা আক্রমণে ফলে শত্রুদের স্পিডবোটগুলো ডুবে যায়। হতাহত হয় বাকি আরোহীরা। পেছনের দুটো লঞ্চ দ্রুত পেছনে গিয়ে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে শুরু করে দূরপাল্লার ভারী গোলাবর্ষণ। মর্টারের ভারী গোলা এসে পরে আব্দুর রউফের উপর। লুটিয়ে পড়েন তিনি, নীরব হয়ে যায় তাঁর মেশিনগান। ততক্ষণে নিরাপদ দূরুত্বে সরে যেতে সক্ষম হন তাঁর সহযোদ্ধারা।

৫)বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:-

১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী যশোর সেনানিবাস দখলের পর ‘পদ্মা’, ‘পলাশ’ এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর একটি গানবোট ‘পানভেল’ খুলনার মংলা বন্দরে পাকিস্তানি নৌ-ঘাঁটি পিএনএস তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে ঢুকে। ১০ই ডিসেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে গানবোটগুলো খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে এলে অনেক উচুঁতে তিনটি জঙ্গি বিমানকে উড়তে দেখা যায়। শত্রুর বিমান অনুধাবন করে পদ্মা ও পলাশ থেকে গুলি করার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু অভিযানের সর্বাধিনায়ক ক্যাপ্টেন মনেন্দ্রনাথ ভারতীয় বিমান মনে করে গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরে বিমানগুলো অপ্রত্যাশিত ভাবে নিচে নেমে আসে এবং আচমকা গুলিবর্ষণ শুরু করে। গোলা সরাসরি ‘পদ্মা’ এর ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে ইঞ্জিন বিধ্বস্ত করে। হতাহত হযন অনেক নাবিক। ‘পদ্মা’-র পরিণতিতে পলাশের অধিনায়ক লে. কমান্ডার রায় চৌধুরী নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। রুহুল আমিন এই আদেশে ক্ষিপ্ত হন। তিনি উপস্থিত সবাইকে যুদ্ধ বন্ধ না করার আহ্বান করেন। কামানের ক্রুদের বিমানের দিকে গুলি ছুড়ঁতে বলে ইঞ্জিন রুমে ফিরে আসেন। কিন্তু অধিনায়কের আদেশ অমান্য করে বিমানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। বিমানগুলো বোমাবর্ষণ করে পলাশের ইঞ্জিনরুম ধ্বংস করে দেয়। শহীদ হন রুহুল আমিন। রূপসা নদীর পারে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

৬)বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান:-

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের শেষভাগে হামিদুর রহমান প্রথম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ভোর চারটায় মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌঁছে অবস্থান নেয়। সামনে দুই প্লাটুন ও পেছনে এক প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে এগুতে থাকে শত্রু অভিমুখে। শত্রু অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌঁছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিলো না। ২৮শে অক্টোবর প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তানি বাহিনীর থার্টি এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফল ভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। সে অবস্থাতেই তিনি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে সেখানকার দুই জন পাকিস্তানি সৈন্যের সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এভাবে আক্রণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন। এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যান এবং সীমানা ফাঁড়িটি দখল করেন। কিন্তু হামিদুর রহমান এই বিজয় দেখে যেতে পারেননি। ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা তার লাশ উদ্ধার করে।

৭)বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান:-

১৯৭১ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে মতিউর রহমান স্বপরিবারে দুই মাসের ছুটিতে ঢাকায় আসেন৷ ২৫শে মার্চের কালরাতে মতিউর ছিলেন রায়পুরের রামনগর গ্রামে। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভৈরবে একটি ট্রেনিং ক্যাম্প খুলে বাঙালি যুবকদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তুললেন একটি প্রতিরোধ বাহিনী। পরে তিনি দৌলতকান্দিতে জনসভা করেন এবং মিছিল নিয়ে ভৈরব বাজারে যান। পাকিস্তানি সেনারা ভৈরব আক্রমণ করলে বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইপিআর-এর সঙ্গে থেকে প্রতিরোধ করেন।

এর পরই কর্মস্থলে ফিরে গিয়ে জঙ্গি বিমান দখল এবং সেটা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন মতিউর রহমান। ২০শে আগস্ট সকালে করাচির মৌরিপুর বিমান ঘাঁটিতে তারই এক ছাত্র রশীদ মিনহাজের কাছ থেকে একটি জঙ্গি বিমান ছিনতাই করেন। কিন্তু রশীদ এ ঘটনা কন্ট্রোল টাওয়ারে জানিয়ে দিলে অপর চারটি জঙ্গি বিমান মতিউরের বিমানকে ধাওয়া করে। এ সময় রশীদের সাথে মতিউরের ধ্বস্তাধস্তি চলতে থাকে এবং এক পর্যায়ে রশীদ ইজেক্ট সুইচ চাপলে মতিউর বিমান থেকে ছিটকে পড়েন এবং বিমান উড্ডয়নের উচ্চতা কম থাকায় রশীদসহ বিমানটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে থাট্টা এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মতিউরের সাথে প্যারাসুট না থাকায় তিনি নিহত হন। তাঁর মরদেহ ঘটনাস্থল হতে প্রায় আধ মাইল দূরে পাওয়া যায়।

Sharing is caring!

Loading...
Open