সুনামগঞ্জ সীমান্তে আবারও সাড়ে ৭ মে.টন চোরাই কয়লা আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত চোরাচালানী ও চাঁদাবাজদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। মামলা দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না চোরাচালান ও চাঁদাবাজি। আবারও পৃথক অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৭ মে.টন চোরাই কয়লা আটক করেছে বিজিবি।

এব্যাপারে বিজিবি,পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল ১৪ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের দুধেরআউটা গ্রামের চাঁদাবাজি মামলা নং-জিআর ১৬৩/০৭ইং এর জেলখাটা আসামী চিহ্নিত চোরাচালানী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া,তার সহযোগী একাধিক চাঁদাবাজি ও চোরাচালান মামলার জেলখাটা আসামী লালঘাট গ্রামের কালাম মিয়াসহ তাদের একান্ত সহযোগী লাকমা গ্রামের আব্দুল হাকিম ভান্ডারী,ইদ্রিস আলী,তিতু মিয়া,রতন মহলদার,শরিফ মিয়া,কামরুল মিয়া,দূরবীনশাহ,বদিউজ্জামান গং বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের ১১৯৮পিলারের লাকমাছড়া এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ৫০মে.টন কয়লা পাচাঁর করে। এই খবর পেয়ে বিজিবি লাকমা গ্রামের সাদিকুল মিয়া,সজুন মিয়া,সুমন মিয়াসহ জিরো পয়েন্ট থেকে সাড়ে ৩মে.টন (৫২বস্তা) চোরাই কয়লা আটক করলেও চোরাচালানীদেরকে গ্রেফতার করেনি।

অন্যদিকে, গত ১৩ই ডিসেম্বর বুধবার রাত ১টায় বালিয়াঘাট সীমান্তের ১১৯৭পিলারের পূর্বদিকে লালঘাট এলাকা দিয়ে দায়েরকৃত চোরাচালান মামলা নং-১৩ এর আসামী,চোরাচালান কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়া,আবুল মিয়া,মানিক মিয়া ও চোরাচালান,চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার জেলখাটা আসামী কালাম মিয়া গং ভারত থেকে ৩০মে.টন কয়লা ও ৫হাজার টন চুনা-সাদা পাচাঁর করার পর অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪ মে.টন (৬৭বস্তা) চোরাই কয়লা আটক করলেও চোরাচালান মামলার আসামীদের গ্রেফতার করেনি।

এ ব্যাপারে বড়ছড়া শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া,সজিব হোসেন,খোকন মিয়া,কফিল উদ্দিনসহ আরো অনেকে বলেন,পাচাঁরকৃত ১ বস্তা কয়লা থেকে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার কেরামতের নামে ২০টাকা,ক্যাম্পের মেস(খাওয়া-দাওয়া) খরছ বাবদ ৫০টাকা,তাহিরপুর থানার নামে ৫০টাকা,টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের নামে ৩০টাকা ও বিভাগ,জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের নামে আব্দুর রাজ্জাক নিচ্ছে ৫০টাকা ও সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নামে ৫০টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে বালিয়াঘাট ক্যাম্পের বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী জিয়াউর রহমান জিয়া,আব্দুল হাকিম ভান্ডারী,কালাম মিয়া,তিতু মিয়া ও ইদ্রিস আলী।

এছাড়াও লাকমাছড়া ও টেকেরঘাট ছড়া দিয়ে ভারত থেকে মরা পাথর,বল্ডার পাথর,নুড়ি পাথর আনার জন্য প্রতি ট্রলি থকে ৩৫০টাকা ও প্রতি ট্রলি চুনাপাথর থেকে ৫৫০টাকা চাঁদা নিচ্ছে উপরের উল্লেখির বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী বিভিন্ন মামলার জেলখাটা আসামীরা। অবৈধভাবে ভারত থেকে কয়লা,চুনাপাথর,মদ,গাজা,হেরুইন,ইয়াবা পাচাঁর করে সেখান থেকে লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করে চোরাচালানী জিয়াউর রহমান জিয়া,কালাম মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক রাতারাতি হয়েছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। তারা চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করে নিজনিজ এলাকায় নির্মাণ করেছে বিলাসবহুল বাড়ি,ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান,কিনেছে দামী মোটর সাইকেল,জায়গা-জমি,একাধিক ব্যাংক একাউন্ট ও বীমা। তাদের মাধ্যমে সীমান্তের চোরাই কয়লা ও চুনাপাথরের ঘাটগুলো লিজ দিয়ে চলছে যাবতীয় চোরাচালান।

এ ব্যাপারে জানতে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সরকারী মোবাইল নাম্বারে বারবার ফোন করার পরও কেউ ফোন রিসিভ করেনি।
সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open