এতো বড় একটা ঘটনা হলে তো অনেক দেশে যুদ্ধ বেঁধে যায়-প্রধানমন্ত্রী

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের প্রচেষ্টার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এতো বড় একটা ঘটনা হলে তো অনেক দেশে যুদ্ধ বেঁধে যায়। আমি বলি- না, আমরা শান্তি চাই।’

তিনি বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। এটাই জাতির পিতা শিখিয়েছেন। এ পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি।’

গতকাল মঙ্গলবার (১২ই ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার প্যারিস সফররত আবাসস্থল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্র্যান্ড হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেহেতু আমাদের একেবারে প্রতিবেশী, তাদের (মিয়ানমার) সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে না। কিন্তু এই সমস্যাটা তাদের সৃষ্টি করা। এই সমস্যা তাদের নিরসন করতে হবে এবং মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে।’

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ববাসীর সমর্থনের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকের সমর্থন আমরা পেয়েছি। সকলেই বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এভাবে সকল রাষ্ট্র আমাদের সমর্থন দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা সমর্থন পেয়েছি সারাবিশ্বের মানুষের। সব দেশের সরকার নয়। কিন্তু সারাবিশ্বের মানুষের সমর্থন পেয়েছি আমরা। আর এই রোহিঙ্গা সংকটেও পৃথিবীর প্রায় সব দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে।’

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যে তাদের ফেরত পাঠাবো। সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে পারবো।

রাখাইনে স্থানীয় বাহিনীর সংঘাতে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বিতাড়নের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে চলে এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন প্রমুখ।

Sharing is caring!

Loading...
Open