গোলাপগঞ্জে নদীতে ডুবে যাওয়া ফেরি উদ্ধারে নেই কোন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সিলেটের গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে সরকারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ডুবে যাওয়া ফেরিটি উদ্ধারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। প্রায় দুই মাস থেকে এ ফেরিটি উদ্ধার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশ দেখা দিয়েছে কুশিয়ারা নদী তীর এলাকার লোকজনের মধ্যে। কুশিয়ারা নদীতে থাকা শিকপুর-বহরগ্রাম এ ফেরিটি চালুর দাবিতে এলাকার লোকজন অনেক আন্দোলন করে কোনো ফল পাননি।

জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর শিকপুর অংশে নোঙর করা অবস্থায় ফেরিটি তলিয়ে গেছে প্রায় দু’মাস আগে। ফেরির দুই-তৃতীয়াংশ অংশ নদীতে তলিয়ে গিয়ে পলিতে ভরাট হয়েছে। প্রায় দুই বছর থেকে কুশিয়ারা-শিকপুর নদীতে থাকা নানা অজুহাতে ফেরিটি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এ ফেরি চালুর দাবিতে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজন এলাকায় সভা, মানববন্ধন, মিছিল স্মারকলিপি দিয়েছিলেন।

কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দীর্ঘদিন ফেরিটি অকেজো অবস্থায় পানিতে থাকার ফলে জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ। অবশেষে দুই মাস আগে নদীর তলদেশে তলিয়ে যায় অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা ফেরিটি। দুই বছর থেকে বন্ধ থাকার ফলে কুশিয়ারা নদীর বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরি দিয়ে হাজার হাজার চলাচলকারী লোকজন রয়েছেন দারুণ বেকায়দায়।

ফেরি না থাকার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন চলাচল করছেন ছোট ছোট ‘বারকি’ নৌকায়। দুই মাস আগে ফেরিটি ডুবে গেলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এটি উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

এলাকাবাসী জানান, ২০০৩ সালে কানলি সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর বিয়ানীবাজার-শাহবাজপুর সড়কের সুনাই নদীর কানলি-দৌলতপুর অংশে চলাচলকারী একটি ফেরিটি ডুবে যায়। এ ফেরিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সিলেট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন, কুশিয়ারার বহরগ্রাম-শিকপুর ঘাটে ফেরি ডুবে যাওয়ার বিষয়টি আমরা অবহিত রয়েছি। সিলেট অফিস থেকে ফেরি উত্তোলন করার চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে সম্ভব হয়নি। তলিয়ে যাওয়া ফেরিটি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা) রব্বানী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open