বিদ্যুৎ খাতের কাজের গতি বেড়েছে

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: এ বছর বিদ্যুৎ খাতের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি (এডিপি) গত বছরের তুলনায় বেশি। কারণ চলতি বছরের প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় হয়েছে দ্রুত। সঙ্গে ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি। গত পাঁচ মাসের এডিপি পর্যালোচনায় এই তথ্য পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়— বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র স্থাপনের মতো প্রকল্পগুলোতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি অগ্রগতি হয়েছে। বিদ্যুৎখাতের প্রকল্পগুলোতে এবার অর্থছাড় সময়মতো হওয়ার কারণেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

এবারের অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ৮৫টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে আরও ১৬টি প্রকল্প। নভেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ২ দশমিক ৭৭ ভাগ বেশি কাজ হয়েছে। এ সময়ে এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোতে ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের ৪৭ দশমিক ৫৫ ভাগ।

অন্যদিকে নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৫২ দশমিক ৯ ভাগ। গড়ে প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ ৪৭ দশমিক ৭৭ ভাগ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ ভাগ। গত বছর এই সময়ে অগ্রগতি ছিল ৩০ দশমিক ২১ ভাগ। যা নতুন অর্থবছরের তুলনায় ১৬ দশমিক ৪৭ ভাগ কম।

অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৮৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৫টির প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আর ৪৫টি প্রকল্পের ৫০ ভাগের চেয়ে কম কাজ হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়।

তবে ৩১টি প্রকল্পের কোনও অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে ২১টি এডিপি ও ১০টি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার ২২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংস্থাগুলোর মধ্যে শুধু এসপিএসসিএল-এর ৭টি প্রকল্পের কোনও অগ্রগতি হয়নি। বাকি ১৩টি সংস্থার ৭৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে আছে ১ হাজার ২৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্প। এগুলোর মোট ১৭ দশমিক ৬৪ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

এরপর আছে ‍পিডিবি। পিডিবির ২১টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা (অগ্রগতির পরিমাণ ৮ দশমিক ১৩ ভাগ)। আরইবি’র ৭ লাখ ২৮ হাজার ২৩১ লাখ টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ৩ দশমিক ৩৫ লাখ টাকা (অগ্রগতির পরিমাণ ১৮ দশমিক ৪৩ ভাগ)।

একইভাবে পিজিসিবি’র ১৫টি প্রকল্পের মোট অগ্রগতির পরিমাণ ২৩ দশমিক ৩৩ ভাগ। ডিপিডিসি’র ৬টি প্রকল্পের ১১ দশমিক ৮৩ ভাগ, ডেসকোর ৫টি প্রকল্পের ১ দশমিক ৫৭ ভাগ, পাওয়ার সেলের একটি প্রকল্পের ৬ দশমিক ২৫ ভাগ, ওজোপাডিকো’র ৩টি প্রকল্পের ৫৯০ দশমিক ১৭ ভাগ, নওপজেকোর দুটি প্রকল্পের ২ দশমিক ৮২ ভাগ, ইজিসিবির ৫টি প্রকল্পের ১ দশমিক ৯৮ ভাগ, সিপিজিসিএল-এর ৩টি প্রকল্পের ১৪ দশমিক ৮৭ ভাগ ও আরপিসিএল-এর দুটি প্রকল্পের ৪ দশমিক ৫৮ ভাগ কাজ হয়েছে। তবে স্রেডা’র দুটি প্রকল্পের মাত্র ১ ভাগ কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কয়েকটি প্রকল্পের কাজ ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে— কনভারসন অব শাহাজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র, কনভারশন অব বাঘাবাড়ি ১০০ মেগাওয়াট, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকার দ্বিতীয় ব্লকের ভূমি উন্নয়ন সংরক্ষণ প্রকল্প, পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক স্ট্রেনদেনিং প্রকল্প, মহেশখালী পাওয়ার হাব-এর ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প, কনস্ট্রাকশন অব খুলনা কোল বেজড পাওয়ার প্ল্যান্ট কানেক্টিং রোড, খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন উল্লেখযোগ্য।

এ প্রসঙ্গে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর বিদ্যুৎ খাতের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি বেশি। কারণ চলতি বছরের প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় হয়েছে দ্রুত। এজন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।’

শুধু অর্থছাড় নয়, প্রকল্পগুলোর কাজ যেন দ্রুত এগিয়ে যায় সেজন্য নজরদারি করা হয়েছে বলে জানান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক। তার ভাষ্য, ‘প্রতি মাসে বৈঠকরা, বৈঠকের প্রকল্পগুলোর কাজে অগগ্রতি পর্যালোচনা ও যেসব প্রকল্প পিছিয়ে আছে সেগুলোর কাজ তরান্বিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open