দীর্ঘ ১১ মাসেও অগ্রগতি হয়নি সিলেটের দুর্গাকুমার স্কুলে হামলার মামলার

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের দুর্গাকুমার পাঠশালা সরকারি স্কুলে বই বিতরণ উৎসবে হামলাকারীদেরকে ১১মাসেও সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। দায়েরকৃত মামলার এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। মামলা নথিভুক্ত করেই যেন পুলিশের দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি বই বিতরণ উৎসবে হামলার ঘটনা ঘটে।

আগামী ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি বই বিতরণ উৎসবে হামলার এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। আলোচিত এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা শংকা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল না করার কারণে মামলাটি এখনও বিচারে উঠেনি। কোতোয়ালি থানার জিআরও এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

মামলা দায়েরের পর থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই ফয়েজ উদ্দিন ফায়েজ মামলার বাদী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সেগুফতা কানিজ আক্তার ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাথেও কোন ধরণের যোগাযোগও করেননি। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা ফায়েজ বলেন-‘প্রায় তিন মাস আগে তিনি মামলাটির চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করেছেন।

বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ই ডিসেম্বর) কোতায়ালি থানার জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) নেহার রঞ্জন নিশ্চিত করেন-এখনও মামরার তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমা দেননি।

তিনি আরও জানান-দুর্গাকুমার পাঠশালা স্কুলে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। আর অভিযোগপত্র না পাওয়ায় মামলাটি বিচারেও উঠছেনা।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী বলেন-বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ি স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা বাদী হয়ে এ বছরের (২রা জানুয়ারি) ৩০-৩৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে মামলা করেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা দায়েরের পর আর আমাদের সাথে আর কোন যোগাযোগ করেননি।

তিনি জানান-বই বিতরণ উৎসবে হামলার ঘটনার পর স্কুলে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ মাসের প্রায় দিনই আতংকে অনুপস্থিত থাকত। অনেকেই অভিভাবক ছাড়া ক্লাসে বসত না। আমরা চাই এ মামলাটির যথাযথ তদন্ত করে হামলাকারীদেরকে সনাক্ত করা হউক। সে দিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন-আজান ও নামাজের সময় অনুষ্ঠান বন্ধ ছিলো। নামাজ শেষে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় পাশ্ববর্তী মসজিদ থেকে নামাজ শেষ করে বের হওয়া লোকজন শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই ফয়েজ উদ্দিন ফায়েজ জানান- দুর্গাকুমার স্কুলে হামলার ঘটনার দায়েরকৃত মামলায় ৩মাস আগে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। এখন আদালতের কার্যক্রম।

জানা যায়- বছরের প্রথম দিনেই সরকার দেশের প্রতিটি স্কুলে প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করে। সরকারের এই সফলতাকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য সিলেটের দুর্গাকুমার পাঠশালা স্কুলে পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালিয়ে বই বিতরণের অনুষ্টান পন্ড করে দেয় ৩০-৩৫জন দুর্বৃত্ত। হামলাকারীরা মিছিল করে এসে অনুষ্ঠানমঞ্চ, প্যান্ডেল, মাইক ও বাদ্যযন্ত্র, প্লাস্টিকের চেয়ারও ভাংচুর করে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভয়ে দিগবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে।

Sharing is caring!

Open