পিতা পুত্রের শেষ দুই মিনিটের সাক্ষাৎ

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: নাকে রাইস টিউব। পরনে সাধারণ কাপড়। সেগুন কাঠের সাজানো দরজাটি টেনে ধরলেন দু’জন সেনা সদস্য। হুইল চেয়ারে চেপে ভেতরে ঢুকলেন অশীতিপর শরিফুল হক।

তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্যপ্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বাবা। হুইল চেয়ারে বসতেও তার যে কষ্ট হচ্ছে, তা শরীরের মৃদু কম্পনে স্পষ্ট।

৯৫ বছর বয়সী শরিফুল হক দরজা পেরিয়ে কয়েক গজ সামনে গেলেন। সেখানেই কফিনে শুয়ে আছেন তার আদরের মেঝো ছেলে আনিসুল হক।

তখন বেলা ঠিক দুইটা ৫৫ মিনিট। আনিসুল হকের কফিনের পাশে মাথা গুঁজে তখন বসে আসেন স্ত্রী রুবানা হক। রুবানার পাশেই হুইল চেয়ারে বসে শরিফুল হক।

কফিন ঘিরে তখন নিস্তব্দ নিরবতা। কফিনে শুয়ে থাকা মুখটির দিকে অপলক তাকালেন শরিফুল হক। হাত এগিয়ে আদর করলেন। বাবা-ছেলের এই অন্তিম মিলন স্থায়ী হলো মাত্র দুই মিনিট। কিন্তু, এই দৃশ্য তখন অকপটে বর্ণনা করে চলেছে অসংখ্য কাব্য, মহাকাব্য, বেদনার বিষাদসিন্ধু।

বেলা দুইটা ৫৭ মিনিটেই হুইল চেয়ার ধরে আবার সরিয়ে নেওয়া হলো শরিফুল হককে। দরজা পর্যন্ত মাত্র কয়েক গজ যেতেই অনেকটাই ঠোঁট কেঁপে উঠলো তার। কিছু যেন বলতে চাইলেন? ততক্ষণে বেদনায় তার কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ। ক্ষণস্বরের গোঙানি ছাড়া আর কিছুই কারও কান পর্যন্ত পৌঁছাল না। কিন্তু, বাবার এই শব্দও যে শোনার ঠিকই শুনতে পাচ্ছেন। কলিজা যার জন্য ভেঙে খান খান শরিফুল হকের।

এর আগে আনিসুল হকের পারিবারিক বন্ধু আব্দুর নূর তূষার পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, বড় ছেলে সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তার বাবাকে আনিসুল হক মারা যাওয়ার খবর কিছুটা জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘শরিফুল হকের বোধ শক্তি এখন আর তেমন একটা কাজ করে না। নিজ সন্তানদের ছাড়া আর কাউকে তিনি তেমন একটা চেনেন না।’

আনিসুল হকের লাশ তার বাসায় পৌঁছার পর জেনারেল বেলালের বাসা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে শরিফুল হককে বনানীর ২৩ নম্বর রোডে আনিসুল হকের বাসায় আনা হয়। ছেলেকে শেষ আদর করার পর তাকে আবার বড় ছেলের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open