বানিয়াচংয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে কিন্ডারগার্টেন

নিজস্ব প্রতিনিধি:: বানিয়াচং উপজেলা জুড়ে কিন্ডারগার্টেনের ব্যবসা চলছে জমজমাট। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল। অধিকাংশ কিন্ডারগার্টেন ই পরিচালিত হচ্ছে আবাসিক ভবনে। বেশিরভাগ স্কুলে নেই স্থায়ী ভবন,নেই শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ। নাম মাত্র অ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে চলছে কিন্ডারগার্টেনগুলো। এসব কিন্ডারগার্টেনের বেশির ভাগ শিক্ষকই এসএসসি অথবা এইচএসসি পাস। কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অল্পবেতনে পার্টটাইম চাকুরি করেন স্কুলগুলোতে। যারা শিক্ষকতা করেন তা বেশিরভাগই অ-প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। নেই উচ্চতর কোন ডিগ্রিও। প্রাইমারি স্কুল ও উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বেশিরভাগই কিন্ডারগার্টেন। অভিভাবকদের মনোরঞ্জন করে স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে অতিরিক্ত ভর্তি ফি,স্কুল বেতন,গাড়ি ভাড়া,চটকদার বিজ্ঞাপন,সরকারি বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত বই দিয়ে প্লে-গ্রুপ থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়িয়ে মুখরোচক বাণী দিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

উপজেলা সদর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শহরের মতো বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়েও এদের নেই কোন পরিসংখ্যান। পাশাপাশি নেই পাঠদানের অনুমতিও। গলাকাটা ভর্তি ফিসহ উচ্চ হারে বেতন পরিশোধে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার আশায় স্থানীয় এসব কিন্ডারগার্টেনে সন্তানদের ভর্তি করাতে ঝুঁকে পড়ছেন। ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র-ছাত্রী দিন হ্রাস পাচ্ছে। কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকদের গলা কাটছে সুকৌশলে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর স্কুল তো আছেই। কিন্ডারগার্টেনে বাইরের কোন বই-খাতা আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র গ্রহনযোগ্য নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওখান থেকেই চড়া দামে এসব কিনতে হয়। এদিকে,দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তের পরিবারের সন্তানরা এসব কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সুযোগ পায়না। দৃশ্যত শিক্ষা প্রতিষ্টানের নামে এসব কিন্ডারগার্টেন সমাজে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য সৃষ্টি করছে। ফলে সরকারের সার্বজনীন শিক্ষা কর্মসুচী সবার জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক মহা সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে। এসব দেখার মতো যেন কেউ নেই। ইদানিং উপজলো সদরের দুইটি নতুন কিন্ডারগার্টেন গড়ার লক্ষ্যে আনুষঙ্গিক কাজকর্ম শেষ করেছে। লাখলাখ টাকা ব্যয়ে ডেকোরেশনসহ ভবনের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। আগামী পহেলা জানুয়ারি থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। অভিযোগ রয়েছে জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নামে-বেনামে এসব গড়ে তুলছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনদ্বীপ কুমার সিংহের সাথে কথা হলে তিনি জানান,কে বা কারা এসব কিন্ডারগার্টেন গড়ে তুলছেন এসব আমার জানা নেই। এদেরকে পাঠদানের কোন অনুমোদন দেয়া হয়নি। তবে বিস্তারিত জানতে তদন্তের জন্য অচিরেই কমিশন গঠন করা হবে। এদিকে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার হাসিবুল ইসলাম জানিয়েছেন বানিয়াচংয়ে মোট ১৯টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। কয়েকটি বাদে অন্যদের পাঠদানের অনুমতি রয়েছে। তবে নতুন দুইটি গড়ে উঠা কিন্ডারগার্টেনের এখন পর্যন্ত কোন পাঠদানের অনুমোদন দেয়া হয়নি।

Sharing is caring!

Open