তাহিরপুরে সড়কে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল!

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সহসাই মেরামত হচ্ছে না তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ ওয়েজখালী সড়কের আনোয়ারপুর-ফতেপুর অংশ। এমনটাই জানিয়েছে জেলার সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। তাই আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে এই সড়কপথে যাত্রীদের।

বন্যায় ভেঙে যাওয়া এই সড়কের দু-এক জায়গায় এখনো বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এদিকে, ফতেহপুর পর্যন্ত মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে নারী ও শিশু যাত্রীরা পড়ছেন চরম বিপাকে।

তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের ওয়েজখালী সড়কের দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজার থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বাজার পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার বন্যায় ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

পরে আনোয়ারপুর, লোহাচোরা পাতারি, তিওরজালাল ও পুরান বারুঙ্কা গ্রামের লোকজন চলাচলের স্বার্থে নিজেদের টাকায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনো রকম যোগাযোগের ব্যবস্থা করে।

কিন্তু জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এতে চরম ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। কারণ পায়ে হাঁটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এ পথে চলার।

উজান তাহিরপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক হীরামন বললেন, সড়কটি ভেঙে যাওয়ার আগে তাহিরপুর থেকে আনোয়ারপুর হয়ে ফতেহপুর পর্যন্ত অটোরিকশা চালাতাম। এখন শুধু আনোয়ারপুর বাজার পর্যন্ত চলাচল করতে পারি। এতে আয় অনেক কমে গেছে।

আনোয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল কান্তি দে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা এই বাঁশের সাঁকো পারাপার হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিভাবকরা সংশয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

বালিজুরী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুজ জহুর জানালেন, সড়টি মেরামত না করায় চরম বিপাকে পড়েছে জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলাবাসী।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল অভিযোগ তুলে বললেন, জেলার মাসিক উন্নয়ন-সমন্বয় সভায় একাধিকবার বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আপাতত এই সড়ক নির্মাণের কোনো প্রকল্প নেই। তবে ফতেহপুর নদীতে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে এ সড়কের একটি প্রকল্প প্রস্তাব আকারে পাঠানো হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open