গোলাপগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার জালিয়াতি চক্রের ০৪জন আটক,মূলহোতা অধরা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার (ওজনে কারচুপি) জালিয়াতির অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলো পৌর এলাকার সরস্বতী নিজগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছদরুল আলম, রনকেলী উত্তর গ্রামের আকুল আলীর ছেলে মনাই আহমদ, একই গ্রামের আস্তকিন আলীর ছেলে জামাল আহমদ ও কামাল আহমদ। তবে জালিয়াত চক্রের মূলহোতা পৌরসভার ঘোগারকুল গ্রামের সৈয়দ জিল্লুর রহমান প্রতিবারের ন্যায় এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার স্বন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পৌর এলাকার সরস্বতি নিজগঞ্জে একটি বাড়িতে কয়েকজন মিলে সিলিন্ডার জালিয়াতি (ওজনে কারচুপি) করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে ৪জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ছদরুল আলমের পরিবারের অভিযোগ গোলাপগঞ্জে সিলিন্ডার ব্যবসার একক আধিপত্য নিতে গোলাপগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মিসবাহর ভাই সৈয়দ জিল্লুর রহমান ষড়যন্ত্র করে তাদের ধরিয়ে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে ব্যবসায়ীক অংশীদার হওয়ায় সৈয়দ জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে ৭০টি সিলিন্ডারের একটি চালান গতকাল বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ছদরুল আলমের বাড়ীতে এসে পৌছে এর কিছুক্ষন পরপরই পুলিশ অভিযান চালায়। আটক অবস্থায় ছদরুল আলম স্থানীয়দের নিকট দাবী করেন “ আমার ব্যবসায়ীক অংশীদার সৈয়দ জিল্লুর রহমান পাওনা টাকা দিতে না পেরে আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন।”

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মীর আবু নাসের ৪জনকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে জানাগেছে , গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে অবস্থিত রুপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) ও লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) প্লান্ট থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে খূচরা মার্কেটে বিক্রী করেন সৈয়দ জিল্লুর রহমান। একসময় তিনি অবৈধ ইন্টারনেট ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। বর্তমানে সিলিন্ডার ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেছেন।
বড় ভাই সৈয়দ মিসবাহ শিক্ষা মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ার সুবাধে সিলিন্ডার ব্যবসায় একক আধিপত্য নিতে কৌশলে নিজ অংশীদারদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে নিজে রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার প্রভাবে টিকতে না পেরে সিলিন্ডার জালিয়াতি করে কোটিপতি হওয়া আরপিজিসিএল শ্রমিক সুহেদ এখন ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি একইভাবে সৈয়দ জিল্লুর রহমানের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে সিলিন্ডার জালিয়াতির মামলায় চাকরি খোয়াতে বসেছেন এলপিজি প্লান্টের কর্মচারী জনৈক এমাদ উদ্দিন। এরা প্রত্যেকেই জিল্লুর রহমানের নিকট থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে কমিশনের ভিত্তীতে ওজনে কারচুপি করতেন। তবে প্রতিবারই বড় ভাইয়ের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জিল্লুর রহমান বেচেঁ যান।

Sharing is caring!

Loading...
Open