হবিগঞ্জে উপজেলা আ.লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ৭১-এ রাজাকারদের সহযোগিতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি:: “দাসপার্টির খোঁজে” নামে মুক্তিযুদ্ধের একটি গবেষনা গ্রন্থে ১৯৭১ সালের রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দাস পার্টির কমান্ডার শহীদ জগৎজ্যোতি বীর উত্তম এর যুদ্ধকালীন ইতিহাস তুলে ধরি। এ সময় আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভাই জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ভূঁইয়ার স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ড তোলে ধরায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মানহানীর মামলা করে হয়রানী করছেন বলে অভিযোগ করেন আজমিরীগঞ্জের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ চৌধুরী।

গতকাল সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকারদের সহযোগিতা ও আশ্রয় দিয়েছেন মিজবাহ উদ্দিন ভূইয়া ও তার বড় ভাই নূরুল হক ভূইয়া।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, তারা দুই ভাই তাদের বাড়িতে রাজাকার আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে গরু, ছাগল জবাই করে উল্লাস করেছেন। এলাকার মানুষদের নির্যাতন করেছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকার সংবাদ প্রকাশ করে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে তারা লঞ্চে থাকা একদল সশস্ত্র রাজাকারকে অস্ত্রসহ আটক করেছিলেন।

প্রকৃতপক্ষে ১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভৈরব থেকে বিহারীদের ভাড়া করা লঞ্চের ও বিভিন্ন স্থানের মালামাল, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, টাকা পয়সা, লুঠপাটের করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারা রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে মেঘনা রিভার ফোর্স এর কোম্পানী কমান্ডার তৎকালীন আজমিরীগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাকালীন কমান্ডার সৌলরী গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান চৌধুরীর নেতৃতাধীন সহযোদ্ধারা সাবেক সেনা সদস্য মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মুন্সি, মর্তুজ আলী ও তৈয়বুর রহমান খান গংরা এবং দাসপার্টির সদস্য ইলিয়াছ চৌধুরী, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মতিউর রহমান, হায়দারুজ্জামান খান (ধন মিয়া), মুহাম্মদ আলী মুমিন, আব্দুর রশিদ সহ দাসপার্টির মুক্তিযোদ্ধাগণ লোকায়িত নুরুল হক ভূঁইয়াকে ২টি অস্ত্রসহ আটক করেন। পরবর্তীতে কাকাইলছেও রমনী মোহন চৌধুরীর বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং লুন্ঠিত মালামালের খোজখবর জানতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে তার পিতা ও পরিবারের লোকজনের কান্নাকাটি এবং নুরুল হক ভূইয়া নিজে প্রাণ ভিক্ষা চাওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ছেড়ে দেন। মিছবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভাই নুরুল হক ভূঁইয়া প্রাপ্ত বয়স ও সুযোগ থাকা স্বত্বেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি।

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, শুধু তাই নয় ১৯৭০সালের নির্বাচনেও নুরুল হক ভূইয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর নৌকা প্রতীকে প্রচারণায় আজমিরীগঞ্জে জনসভায় গেলে বিরোধীতা করেন এবং নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আম মার্কা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। এ সময় নুরুল হক ভূইয়াকে তার ছোট ভাই মিজবাহ উদ্দিন ভূইয়া সমর্থন করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর মিজবাহ উদ্দিন ভূইয়া বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজমিরীগঞ্জ আদালতে দাসপার্টি খোঁজে বইয়ের লেখক কামরুল হাসান মুর্শেদ ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযুদ্ধা মোঃ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ চৌধুরী সাথে উপস্থিত ছিলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মরতুজ আলী ও মোঃ গোলাম নবী সহ এলাকার গন্য মান্য ব্যাক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open