হবিগঞ্জে প্রসূতির পেটে তোয়ালে রেখে সেলাই ! তদন্তে নেমেছে জেলা প্রশাসন

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: হবিগঞ্জ শহরের চাঁদের হাসি হাসপাতালে সিজারের সময় প্রসূতির পেটে তোয়ালে রেখে সেলাই করার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্ঠি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশের পর এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মোঃ জাকারিয়াকে দায়িত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে, রোববার বিকেলে হবিগঞ্জ ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন হবিগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলক কুমার চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সামছুন্নাহার, আল মাহমুদ, ঝন্টু রায়, সুমন ঘোষ, রূপক দাশ প্রমুখ।
অপরদিকে, শহরের চাঁদের হাসি হাসপাতালে সিজারের সময় প্রসূতির পেটে তোয়ালে রেখে সেলাই সংবাদটি প্রকাশ হলে জেলার সর্বত্র সাধারণ মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকসহ বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। চাদের হাসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও একজন ডাক্তারের এমন কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপি দেয়ার পর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট কায়সার রহমান জানান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী জানান, তিনি সরকারি কাজে ঢাকায় রয়েছেন, হবিগঞ্জে এসে ব্যবস্থা নেবেন।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা বলেন, বিষয়টি অমানবিক। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩শে অগাস্ট সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক ওই নারীর পেটে তোয়ালে (গজ) রেখে সেলাই করে দেন বলে জানান তার স্বামী সঞ্জীব সরকার। অসুস্থ মল্লিকা দাসকে (৩৮) শহরের সিনেমাহল এলাকার হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে বর্তমানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত ২৩শে অগাস্ট তার স্ত্রীকে সিজারিয়ান অপারেশন করানোর জন্য চাঁদের হাসি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মানুযায়ী তাকে ভর্তি করে এবং ওইদিনই ডা. এসকে ঘোষ তার স্ত্রীর অপারেশন করেন। সিজারের সময় মল্লিকার পেটের ভেতরে একটি তোয়ালে (গজ) রেখেই সেলাই করে দেন ডাক্তার। এরপর মল্লিকাকে বাসায় নিয়ে গেলে কয়েকদিন পর থেকেই পেটের ভেতরে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন তিনি। ব্যথা বাড়ায় বেশ কয়েকদিন পর আবার চাঁদের হাসি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মল্লিকাকে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় তার পেটের ভেতরে কিছু রয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। পরে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষার পর গত শুক্রবার রাতে ডাক্তার আবুল কালাম চৌধুরী হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে অপারেশন করে মল্লিকার পেটের ভেতর থেকে একটি তোয়ালে (গজ) বের করেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open