বিয়ানীবাজারে চার মাসে দুই ছাত্রলীগ কর্মী খুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:: বিয়ানীবাজারে চারমাসের মধ্যে দুই ছাত্রলীগ কর্মী খুন হওয়ার ঘটনায় সংগঠনের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। খুনোখুনির ঘটনায় পৌরশহরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতংক। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল।

সর্বশেষ গত শনিবার বিয়ানীবাজার পৌরশহরের মোকাম মসজিদ এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী আনোয়ার হোসেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাহেল আহমদ নামের একজন যুবক আনোয়ারের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। নিহত আনোয়ার ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেনের ভাই এবং সুপাতলা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র।

পুলিশ এ ঘটনায় মূল হোতা কসবা কোনাপাড়া গ্রামের পঙ্খি মিয়ার পুত্র রাহেল আহমদকে গ্রেফতার করতে পারেনি। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় রাহেলের ভাই পাভেল ও চাচা আজাদকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। আনোয়ার উপজেলা ছাত্রলীগ জামাল গ্রুপের সক্রিয় কর্মী ছিল।

এদিকে, গত ১৭ই জুলাই বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের ১২০ নম্বর শ্রেণি কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী খালেদ আহমদ লিটু। সে খাসা এলাকার খলিলুর রহমানের পুত্র। লিটু উপজেলা ছাত্রলীগ পাবেল গ্রুপের সক্রিয় কর্মী ছিল।

লিটু হত্যা ঘটনায় তাঁর পিতা খলিলুর রহমান বাদি হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় ৭জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫জনকে আসামীকে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এ মামলার আসামী লিটু চার সহযোগীকে গ্রেফতার করে। মামলার তিন আসামীকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে গ্রেফতারকৃত দুইজন উচ্চ আদালতের জামিনে রয়েছেন। দুইজন রয়েছেন কারাগারে।

বিয়ানীবাজারের কলেজ রোডের ব্যবসায়ী ছফল উদ্দিন বলেন, যেভাবে মারামারি ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে তাতে আমরা আতংকিত। বিয়ানীবাজারের দীর্ঘ ২০ বছর থেকে ব্যবসা করছি। বর্তমান সময়ের মতো এতো আতংকিত অন্য কোন সময় ছিলাম না।

জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক আমান উদ্দিন বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের দুইজন কর্মী ঘাতকদের আঘাতে মারা গেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেয়া প্রাচীন এ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ দুই ঘটনায় উৎকণ্ঠ বিরাজ করছে। আমরা আর কোন ছাত্রলীগ কর্মীর নিথর দেহ দেখতে চাই না। এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার করে শাস্তি প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

বিয়ানীবাজার থানার ওসি শাহজালাল মুন্সী বলেন, খুনীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। আশাকরি এ দুই মামলার অবশিষ্ট আসামীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open