বিশ্বম্ভরপুরে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ গরুর হাট

নিজস্ব প্রতিনিধি:: বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউপির বাঘবেড় এলাকায় গরুর অবৈধ হাটটি বন্ধ হচ্ছে না। গরুর হাট বন্ধের জন্য গত ১৫শে নভেম্বর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত ১৯শে নভেম্বরের অভিযোগটি ডকেটভুক্ত হয়েছে, ডকেট নং ১৬৭৯। অভিযোগ দায়ের করেন, চিনাকান্দি বাজার ইজারাদার আক্তারুজ্জামান মিরাশ।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গত ১১ই জুলাই পুনরায় তৎকালীণ ইউএনও বরাবর গরুর অবৈধ হাট বন্ধের আবেদন জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার ডকেট নং ১২৬১।

স্থানীয় সুত্র জানায়, প্রতি বৃহস্পতিবার ও রোববার বাঘবেড় এলাকার সলুক শাহ মোকাম ভূমির পূর্ব পার্শ্বে স্বত্ত মোকদদ্দমায় জড়িত একখন্ড ভূমির উপর সপ্তাহে দুই দিন গরুর এ অবৈধ হাট বসছে। স্থানীয় কিছু লোকজন জেলা প্রশাসক বরাবর এক খন্ড ভূমি হস্তান্তর করে বাজার সৃষ্টির জন্য ওই জায়গায় হাট সৃজনের আবেদন করলেও প্রকৃতপক্ষে এখনও বিষয়টি চুড়ান্ত হয়নি। এর পরও ওই সিন্ডিকেট ধুম্রজাল সৃষ্টির মাধ্যমে স্বত্ত মোকদ্দমায় জড়িত এ জায়গাটিতে হাট বসানোর জন্য তোড়জোড় চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে গরুর অবৈধ এ হাটের কারণে উপজেলার চিনাকান্দি বাজার এবং চৌরাস্তা কারেন্টের বাজার গরুর হাটের বৈধ ইজারাদার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া অবৈধ এ হাটটিতে রিসিট ব্যতিত গরু-ছাগল কেনাবেচার কারণে চুরির প্রবনতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিনাকান্দি বাজার ইজারাদার আক্তারুজ্জামান মিরাশ জানান, একটি উপজেলায় দু টি গরুর বৈধ হাট রয়েছে। এরপরও একটি পক্ষ আইন অমান্য করে বাঘবেড় এলাকায় গরুর অবৈধ হাট বসাচ্ছে। ফলে বৈধ ইজারাদার হিসেবে বাজার ইজারা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না, এমন অবস্থা চলতে থাকলে- আগামী বছর সরকার কম ইজারা মূল্যে পাবে, সরকারি রাজস্ব কমে যাবে।

চৌরাস্তা কারেন্টের বাজার ইজাদার শফিকুল ইসলাম জানান, বাঘবেড় এলাকায় অবৈধ গরুর হাট থাকায় মরাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ইজারা মূল্য উঠানোই দায় হয়ে পড়ছে। ইজারা চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই এ উপজেলায় গরুর কোনো হাট তৈরি হলে অর্ধেক ইজারা মূল্যই উঠানো সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস জানান, গরুর হাট সৃজনের জন্য বাঘবেড় ও আক্তাপাড়া নামে পৃথক দু টি জায়গা জেলা প্রশাসক বরাবর হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিডিএলজি মহোদয় সরেজমিন ঘুরে গিয়েছেন বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে গরুর হাট বসানো ও টোল আদায়ের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।

Sharing is caring!

Loading...
Open