শাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ, পরে সংশোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি:: আবেদন করেও ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া এক শিক্ষার্থীকে ‘ভুল করে’ ভর্তির যোগ্য ঘোষণা করে ফলাফল প্রকাশ করার পর তা সংশোধন করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি।

ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উত্তীর্ণ হিসেবে ওই শিক্ষার্থীর রোল নম্বর প্রকাশ করা হলেও পরবর্তীতে তা মুছে ফেলা হয়। উত্তীর্ণ দেখানো ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. আসিফুজ্জামান ইমন। তার বাড়ি নড়াইলে। কিন্তু তিনি আসলে পরীক্ষাই দেননি।

খুলনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা এই শিক্ষার্থী শাহজালার বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-১ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন, যার পরীক্ষা ছিল গত ১৮ই নভেম্বর।

ভর্তি পরীক্ষা না দিলেও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উত্তীর্ণ হিসেবে এসেছিল আসিফুজ্জামান ইমনের রোল নম্বর।

ইমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঢাকা, রাজশাহী ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় তিনি আর পরীক্ষা দিতে যাননি। বুটেক্সে ভর্তির ইচ্ছা রয়েছে তার। এদিকে ২০শে নভেম্বর প্রকাশিত শাহজালালের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে এই শিক্ষার্থীকে বি-১ ইউনিটে মেধা তালিকায় ২৫৮৩তম (রোল নম্বর-১১১৬৩৮৩) হয়েছেন বলে দেখানো হয়।

ভর্তি কমিটির একজন শিক্ষক বলেন, ১১১৬৩৮৬ নম্বর রোলধারী শিক্ষার্থী ভুল করে তার উত্তরপত্রের ঘরে ১১১৬৩৮৩ রোল পূরণ করায় এমন ঝামেলা হয়েছে।

ওই শিক্ষার্থী তার উত্তরপত্রে কলম দিয়ে ১১১৬৩৮৬ রোল নম্বর লিখলেও ওএমআরে ১১১৬৩৮৩ রোল নম্বরের গোল ভরাট করেছিলেন। তবে ভর্তি পরীক্ষার সময় হল রুমে দায়িত্বরত পরিদর্শকদের চোখ কীভাবে এমন ভুল এড়াল সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই শিক্ষক।

সিলেটের ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত কো-অর্ডিনেটরদের তালিকা।

১১১৬৩৮৬ রোল নম্বরধারী শিক্ষার্থীকে ভর্তির যোগ্য ঘোষণা করা হবে কিনা- সে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানান তিনি। আসিফুজ্জামান ইমনের পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল সিলেট নগরীর ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪০৩ নম্বর রুম।

এই কেন্দ্রের দায়িত্বরত কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা এ বিষয়ে এখনও কিছু জানিনা। এটা দায়িত্বরত পরিদর্শকদের ভুল, না অন্য কিছু- তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

এ বিষয়ে জানার জন্য ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক মহিবুল আলমকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Sharing is caring!

Loading...
Open