ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ে তিন শিবির নেতাও অভিযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের আগে ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর হামলাকারী তিন শিবির নেতাকে ‘উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্তে। এরা হচ্ছেন- ওই সময়কার এমসি কলেজ শাখার শিবিরের সভাপতি এস এম মনোয়ার হোসেন, শিবিরের ‘সাথি’ রাসেল মিয়া ও মো. জাহাঙ্গীর আলম।

ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগকারী চিহ্নিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২৯ নেতাকর্মীর সঙ্গে শিবির এ তিনজনসহ সব মিলিয়ে ৩২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রবিবার (১৯শে নভেম্বর)সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়- এস এম মনোয়ার হোসেনের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ-চান্দপুর গ্রামে। মনোয়ার ছাত্রাবাসের বাসিন্দা ছিলেন না। বসবাস করতেন ছাত্রাবাস পার্শ্ববর্তী টিলাগড় এলাকায়। রাসেল মিয়া মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পালপুর গ্রামে। অপর অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীরের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাশতলা গ্রামে।

আদালত সূত্র জানায়, বিচার বিভাগীয় তদন্তে দুটো ভাগে ঘটনাটি দেখা হয়েছে। প্রথম ভাগে তাৎক্ষনিক উত্তেজনা সৃষ্টি ও দ্বিতীয় ভাগে অগ্নিসংযোগ ঘটনা। তাৎক্ষনিক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী হিসেবে এমসি কলেজ শিবিরের তৎকালীন সভাপতি এস এম মনোয়ার হোসেন, রাসেল মিয়া ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রথমত ছাত্রলীগের কর্মী উজ্জ্বল আহমেদকে শিবির কর্মীরা গুরুতর জখম করায় এমসি কলেজে তাৎক্ষনিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তৎপ্রেক্ষিতে এমসি কলেজের পাঁচটি ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।’

তিন শিবির নেতাকে অভিযুক্ত করা প্রসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়েছে যে, শিবিরের মনোয়ার, রাসেল, ও জাহাঙ্গীর ছাত্রলীগ কর্মীকে আঘাত করে গুরুতর জখম করায় এমসি কলেজে তাৎক্ষনিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।’

শাহপরাণ থানার জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) ছমির চন্দ এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন-আদালত থেকে ৩২ জনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসামীদের স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় প্রেরণ করা হয়েছে। ৩২ জনের মধ্যে ২৯জন ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও অবশিষ্ট ৩জন শিবিরের।

Sharing is caring!

Loading...
Open