কুকুর,বিড়ালের অভয়ারণ্য গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স!

নিজস্ব প্রতিনিধি:: জনবল সঙ্কট আর যান্ত্রিক ত্রুটিতে ব্যাহত হচ্ছে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সেবা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতি আর অনিয়ম। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। এাছাড়া ছয় বছর আগে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করলেও এখনও ৩১ শয্যাতেই আটকে আছে সেবা কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ পদের বিপরীতে ৫জন কনসালটেন্ট, ২ জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত রয়েছেন। আরএমও, ইএমও, ল্যাব টেকনিশিয়ান নেই ১২ বছর ধরে। ২০১১ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও আজ পর্যন্ত ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু হয়নি। হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি ২০০৫ সালে আসলেও আজ পর্যন্ত বিকল অবস্থায় বাক্সবন্দি রয়েছে। ল্যাব্রটারি টেকনেশিয়ান না থাকায় রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে না পেরে উপজেলাবাসী মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আরএমও কার্যালয় তালাবদ্ধ। আবাসিক মেডিকেল অফিসারও নেই এক যুগ ধরে। মহিলা এবং পুরুষ ওয়ার্ডে ছাদে মাকড়সাড় জাল, মেঝেতে লেগে আছে নোংরা। ওয়ার্ডে বেওয়ারিশ কুকুর,বিড়ালের অবাধ বিচরণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন কালে দেখা যায়, ইমার্জেন্সী ডাক্তারের দায়িত্বের জায়গায় হাসপাতালের কর্মচারী আব্দুর রউফ অফিসের চেয়ারে পা তুলে ঘুমাচ্ছেন।

গোয়াইনঘাট বাজার ব্যবসায়ী গ্রামীণ আলো সোলারের স্বত্ত্বাধিকারী রনজিত দত্ত জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম দুর্নীতি যেন দেখার কেউ নেই। ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টদের খামখেয়ালিপনা আর অবহেলায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হলেও বিষয়টি কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করে না।

লাফনাউট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোশাহিদ আলী জানান, হাসপাতালে রোগি নিয়ে গেলে কোন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই তারা সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। অথচ প্রায় ডাক্তাররাই হাসপাতাল অভ্যন্তরের বাসা ও হাসপাতাল গেইটে বিভিন্ন ফার্মেসীতে চেম্বার বসিয়ে তাদের রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহান উদ্দিন বলেন, ডাক্তার এবং লোকবল সংকটের কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open