সংস্কারের চার মাসের মধ্যেই ভেঙ্গে গেছে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়ক

নিজস্ব প্রতিনিধি:: প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছিল জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলাধীন জগন্নাথপুর উপজেলা সদর থেকে কেউনবাড়ী পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়ক। তবে সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার চার মাসের মধ্যেই সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

সরজমিন সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায় অনেক স্থানেই পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার ফলে অতি সল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, অর্ধযুগ পর চলতি বছরের মার্চে ঐ রাস্তার জন্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করে দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজটি পান নূরা কন্ট্রাকশনের মালিক আওয়ামীলীগ নেতা নাদের আহমদ। প্রথমে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে কাজটি বাগিয়ে নিলেও পরে রহস্যজনক কারনে কাজটি করতে বিলম্ব করেন। এক পর্যায়ে মার্চ মাসের শেষ দিকে সড়কের সংস্কার কাজটি শুরু করেন। এসময় নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মানসামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে রাস্তাটির কাজ করেন। ঠিকাদার নাদের প্রায় ৪০% কাজ করে রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে আওয়ালীগ নেতা নুরুল আমীনকে দিয়ে বাকী কাজ করানো হয়। ঐ ঠিকাদার চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে দায়সারা ভাবে কাজ করেন। ফলে স্বল্প সময়ে ৪ মাসের মধ্যেই সড়কটির পিছ ঢালাই উঠে ভেঙ্গে যায়।

জানা গেছে, আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আমিন কাজ করলেও এলজিইডি অফিস থেকে বিল দেওয়া হচ্ছে আওয়ামীলীগ নেতা নাদের আহমদের নামে। তিনি আবার বিল দিচ্ছেন আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আমীনকে।

সড়কের পার্শ্ববর্তী মীরপুর গ্রামের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, মাত্র ৪ মাসের মধ্যে সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকাই লুটপাট করে নিয়েছে ঠিকাদার । লুটপাট বন্ধ না হলে টেকসই সড়ক নির্মান কাজ হবে না।

এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ বলেন, সরকার ঐ সড়কের জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের জন্য পৌনে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কত টাকার কাজ হয়েছে এ ব্যাপারে দূর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের জন্য অনুরোধ করছি। অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অসাধু ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করে অধিকাংশ টাকাই লুটপাট করে নিচ্ছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধি যেই হউক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যাতে টেকসই উন্নয়ন হয় এ ব্যাপারে উর্দ্ধেতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বার্হ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, এত স্বল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়াতে আমি বিষ্মিত। আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান বলেন, এত স্বল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যাদের গাফিলতি ও দূর্নীতির কারণে এ অবস্থা হলো, এ ব্যাপারে আমরা খতিয়ে দেখে উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার নাদের আহমদ প্রথমে কাজটি নিলেও সময়মত কাজটি করেন নি। বিলম্বে বৃষ্টির সময়ে কাজ শুরু করেন। প্রায় অর্ধেক কাজ করার পর তার গাফিলতির কারণে আমরা ঠিকাদার নুরুল আমীরকে দিয়ে বাকি কাজ করাই। তিনি বলেন, বৃষ্টির মধ্যে কাজ করায় রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। তবে খুব দ্রুতই সড়কটি পুনঃসংস্কার করা হবে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার নাদের আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

Sharing is caring!

Loading...
Open