অবশেষে সমাপ্ত হলো টিকিট কেলেঙ্কারীর বিপিএল’র সিলেট পর্ব

বিশেষ প্রতিবেদন:: ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট আসর বিপিএল, (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ) এর ৫ম আসরের সিলেট পর্ব শেষ হয়ছে। গত বুধবার সিলেট সিক্সার্স বনাম খুলনা টাইটানস এর খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিপিএল সিলেট পর্ব। এর আগে কোন জাকজমক অনুষ্ঠান ছাড়াই ৪ঠা নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পর্দা উঠে বিপিএল এর পঞ্চম আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্স বনাম ঢাকা ডাইনামাইটস। পরে একে একে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী বাকি ৬টিম খেলে।

একদিন বিরতি দিয়ে সিলেটে বিপিএলের মোট ৮ টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। আর প্রতিটা ম্যাচেই স্টেডিয়ামে ছিলো দর্শকদের নজরকাড়া ভিড়। হাজার হাজার দর্শক গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করেন। এটা নিঃসন্দেহে সিলেটের জন্য বড় পাওয়া। এর মাধ্যমে হয়ত বিসিবি আগামী দিনে সিলেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাববে।

তবে গ্যালারিতে মাত্র ১৮ হাজার দর্শক ধারন ক্ষমতা থাকায় আরও প্রায় কয়েক হাজার দর্শক টিকিট এর অভাবে মাঠে খেলা দেখতে পারেননি। এটা অনেকে স্বাভাবিক ভাবে নিবেন যে টিকিট সবাই পায় না, যারা আগে যায় তারাই পায়। কিন্তু এই টিকিটের পিছনে যে এক মহা কেলেঙ্কারি রয়েছে তা প্রথমে সবাই না জানলেও এখন সবার জানা।

বিপিএল টিকিট নিয়ে হয়েছে কেলেঙ্কারি, টিকেট বিক্রর আগের দিন মধ্যরাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ও টিকিট পাননি অনেক ক্রিকেট প্রেমী। ক্রিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষরা জানান টিকিট শেষ। কিভাবে শেষ হলো টিকিট! ১৮ হাজার টিকিট আপনা আপনি শেষ হয়ে গেলো? এমন প্রশ্ন জাগে ক্রিকেট প্রেমীদের মনে, পরে এই নিয়ে প্রথমদিন পুলিশের সাথে ঝগড়াও হয়েছে। টিকিট না পেয়ে ফিরতে হয়েছে শত শত ক্রিকেট প্রেমীদের। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় টিকিট মিলছে বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে, যাদের কাছে শত শত টিকিট রয়েছে এবং অধিক মূল্যে তা দর্শকদের কাছে বিক্রি করছে ।

২০০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকা আর ৪০০ টাকার টিকিট হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর খেলা দেখার উচ্চাকাঙ্খা থেকে দর্শকরাও বাধ্য হয়ে অধিক মুল্য দিয়ে টিকিট কিনেছে। আর যাদের সামর্থ্য হয় নি, তারা চুপচাপ বসে থেকে নীরবে সয়েছে। তবে কিভাবে ওই সব ব্যক্তির কাছে টিকিট গেলো, আর তারা এত টিকিট কিভাবেই পেলো এমন প্রশ্ন সিলেটের লাখো ক্রিকেট প্রেমীদের মনে। টিকিট নিয়ে সাধারণ মানুষদের সাথে এমন প্রতারণা কেনো, নামমাত্র টিকিট বুথে রেখে বাকি সব উদাও হলো কিভাবে। মানুষদের এমন হয়রানি কেনো! কারা এর সাথে জড়িত! এ সব প্রশ্নের কিছুটা উত্তর মেলেছে।

বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল এবং দৈনিক সংবাদপত্রের সংবাদ অনুযায়ী খবর মিলেছে যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই আঙ্গুল তুলছেন এখন বিসিবি পরিচালক ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম নাদেলের উপর। তারা বলছেন, যারা এই টিকিট পকেটে রেখে ২০০টাকার টিকিট ১০০০/১৫০০ টাকা বিক্রি করেছেন সবাই নাদেলের কাছের মানুষ। তিনি সরাসরি এসবে জড়িত বলেও অভিযোগ করছেন অনেকে। তাছাড়া অপর দিকে চারটি বুথ ছাড়াও বিশেষ বুথে ছাত্রলীগ নেতাকরর্মীদের নিজ হাতে টিকিট বিক্রি করেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্য্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বিজিত চৌধুরী।
শুধুমাত্র টিকিট কেলেঙ্কারি নিয়েই শেষ হয় নি বিপিএল এর ৫ম আসরের সিলেট পর্ব। শেষ হয়েছে মান অভিমান নিয়েও। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নগর পিতা আরিফুল হক চৌধুরী বিপিএল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তিনি অনেকটা আক্ষেপের সুরেই জানান, নগরীতে এতো বড় আয়োজন কিন্তু আমাকে দাওয়াত করা হয়নি। এরকম অবমূল্যায়ন আসলেই মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।

এর আগে ০৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বিপিএল বয়কটের আহ্বান জানান জেলা আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দ এবং সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী সহ সর্বস্তরের নেতা কর্মী। হ্যাঁ অবস্যই এমন অবমূল্যায়ন কেনো! শহরে এত বড় আয়োজন অথচ দাওয়াত পাননি নগর পিতা। তবে কি এখানে তাকে রাজনৈতিক কারনে মুল্যায়ন করে নি কর্তৃপক্ষ! এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র(১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদীও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার ওয়ার্ডের পাশেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিপিএলের সিলেটের আসর। কিন্তু আমাকে দাওয়াতটা দেয়নি আয়োজকরা। শুধু এই জনপ্রতিনিধিও নয় দাওয়াত পাননি সিলেটের জাতীয় দলের সাবেক অনেক ক্রিকেটার ও বুকের মধ্যে চাপা কষ্ট নিয়ে এরকম অনুভূতি প্রকাশ করেন তারা।

নিজ শহরে হচ্ছে এত বড় আয়োজন অথচ কেনো তাদেরকে দুরে রেখেছিলো আয়োজকরা,আর এটা কতটা যৌক্তিক, অথবা তারা কি দাওয়াত পাওয়ার দাবি রাখে না এমন প্রশ্ন বিসিবির প্রতি এবং বাংলার কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমিদের প্রতি। এতে কি আয়োজকদের আয়োজনের ত্রুটির বহিঃপ্রকাশ হয় না বা খেলাকেও রাজনৈতিক পর্যায়ে নেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে না। যাই হোক শেষ পর্যন্ত মান অভিমান ভুলে মাঠে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন সিলেট নগর পিতা আরিফুল হক চৌধুরী। আর তিনি খেলায় উপস্থিত থেকে বিদায় দেন ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিপিএল সিলেট পর্বের।

তবে নানান ক্রিকেট কেলেঙ্কারি কিংবা পাওয়া না পাওয়ার হিসাব শেষে বলতে হয় ৪ দিনের জন্য উৎসব নগরীতে পরিণত হয়েছিলো সিলেট। আর তার অবসান ঘটলো গতকাল। আর এই জাকযমক পূর্ন খেলায় চাঙা গোটা সিলেটবাসীর মন। ৪ ম্যাচে ৩টিতেই জয় স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্সের। এমন জয় সব ব্যাথা বেদনা ভুলিয়ে দিয়েছে সিলেটবাসীকে। আগামী ১১ তারিখ থেকে শুরু হবে বিপিএল এর ঢাকা পর্ব।

Open