সমাবেশে ‘হামলার’ পর অজ্ঞান সাংসদ কেয়া চৌধুরী – ওসমানীতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে

হবিগঞ্জের বাহুবলে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর একটি সমাবেশে হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার মিরপুর বাজারে অনুদানের চেক বিতরনকালে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত আরেকটি সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে সভামঞ্চে অজ্ঞান হয়ে পড়েন কেয়া চৌধুরী।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। ওসমানীতে আনার পর কেয়া চৌধুরী শংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা। তবে তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এমপি কেয়া চৌধুরীর একান্ত সহকারী মামুন আহমদ জানান- হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে অনুদানের চেক বিতরনকালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়ার নেতৃত্বে তাঁর উপর হামলা হয়। হামলায় আহত হয়ে কেয়া চৌধুরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্থানীয়রা জানান- হামলাকারীরা কেয়া চৌধুরীর বিরোধী ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী।

হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান রাসেল গণমাধ্যমকে জানান, মিরপুরের বেদে পল্লীতে সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে সংসদ সদস্যের একটি অনুষ্ঠান ছিল।

“অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়ার লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।”

পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে তিনি জানান।

রাসেলুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনার পর সাংসদ কেয়া চৌধুরী মিরপুর বাজারে এক প্রতিবাদ সভা করেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে এমপি কেয়া চৌধুরীর অভিযোগ, পূর্ব পরিকল্পানা অনুযায়ী ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়ার লোকজন তাঁর সভায় হামলা চালিয়েছে।

পরে মিরপুরে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি বলেন, “সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান ছিল আমার। অনুষ্ঠান চলাকালে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা মিয়ার লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে।”

বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি করলেও তাদের পরিচয় জানাননি।

এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ছেলে মোবাইলে ছবি ধারণ করছিল। এ সময় সংসদ সদস্যের লোকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।

“এ ঘটনায় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।”

সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী মামুন আহমেদের ভাষ্য, “ম্যাডাম বাহুবলের মিরপুরে একটি অনুষ্ঠান করছিলেন। সেখানে বাহুবল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়ার নেতৃত্বে হামলায় ম্যাডাম আহত হন।”

তিনি বলেন, হামলায় তার মঞ্চ ভাংচুর ও মাইক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসময় হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে চাইলে তার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক বলেন, সাংসদ কেয়া চৌধুরীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তার জ্ঞান আছে, তিনি আশঙ্কামুক্ত। সারাদিন বিভিন্ন প্রোগ্রাম করায় খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো না করায় হয়তো তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open