দেবোত্তর সম্পত্তির উপর অবৈধ স্থাপনা,সব বিষয়ে নাক না গলাতে পঙ্কজের নির্দেশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটর তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তির উপর অবৈধভাবে দোকানকোঠা তৈরি করে দখল বিক্রি করছেন বাগানের সেবায়েত। জামানত বাবদ ১০টি দোকান থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া আরো ৫টি দোকানকোঠা নির্মাণাধীন রয়েছে। সেগুলোরও দখল বিক্রির আলাপ-আলোচনা চলছে।

এদিকে, দেবোত্তর সম্পত্তির উপর স্থাপনা নির্মাণে কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই বলে দাবি করছেন তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত ও রাজেন্দ্রলাল গুপ্তের ছেলে ডা. পঙ্কজ গুপ্ত ওরফে শংকর।

তিনি বলেন, এ সম্পত্তি আমার দাদা ব্যবহার করেছেন। পরে দােিয়ত্ব ছিলেন আমার বাবা। এখন আমি ব্যবহার করছি। এটা আমাদের পারিবারিক দেবোত্তর সম্পত্তি।

তিনি আরও বলেন, এরপরও আমি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছি। তবে তার এ অনুমোদনের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন। প্রথমে বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। পরে বলেন, টুকেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন।

আবার বলেন, অনুমোদনের কোনো দরকার নেই। এ ব্যাপারে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় খবরও এসেছে। জেলা প্রশাসক অবগত আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারাপুর মৌজার জেএল নম্বর ৭৬, খতিয়ান নম্বর ১৭ ও দাগ নম্বর ১৮ এর জায়গার উপর অবৈধভাবে ১৫টি দোকানকোঠা নির্মাণ করেছেন তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত ও রাজেন্দ্রলাল গুপ্তের ছেলে পঙ্কজ গুপ্ত ওরফে সংকর। এর মধ্যে ১০টি দোকানের নির্মাণ কাজ শেষ। বাকি ৫টি নির্মাণাধীন।

এছাড়া এ স্থাপনা নির্মাণে শংকরের সাথে বিনিয়োগ করেছেন তারাপুর চা-বাগানের কেয়ারটেকার করের পাড়ার মৃত রঙ্গেস চন্দ্র দেবের ছেলে গৌতম চন্দ্র দেব। ১০টি দোকানের মধ্যে তিনি কিনেছেন ২টি।

সূত্র জানায়, ৩ লাখ টাকা জামানত দিয়ে ১টি করে দোকানকোঠার দখল কিনেছেন সিলেট সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন, সিলেট মহানগর যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুদিপ দে, যুবলীগ নেতা সাহেদ আহমেদ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বন পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাশ, স্থানীয় ব্যবসায়ী লেবু আহমদ, চৈতি ফার্মেসির মালিক রনজিৎ, স্থানীয় ব্যবসায়ী তানিম আহমদ মুন্না। আর দুটি দোকানকোঠা কিনেছেন বাগানের কেয়ারটেকার ও শংকরের সহকারী গৌতম চন্দ্র দেব।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মকবুল হোসেন জানান, শংকরের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জামানত দিয়ে একটি দোকানকোঠার দখল ক্রয় করেছি। এ ব্যাপারে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করাও শেষ। তিনি বলেন, দোকানকোঠা ক্রয় করার সময় দেবোত্তর সম্পত্তি উল্লেখ করা ছিল। এছাড়া জগদীশ চন্দ্র দাশ, সুদিপ দে ও সাহেদসহ আরো অনেকে ৩ লাখ টাকা করে দোকানকোঠা কিনেছেন বলে জানান তিনি।

তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করেন সিলেট মহানগর যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সুদিপ দে। তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি কোনো দোকানকোঠা ক্রয় করিনি।

এ ব্যাপারে সেবায়েত পঙ্কজ গুপ্ত ওরফে শংকর এ সম্পত্তি তাদের পারিবারিক দাবি করে বলেন, আমি তাদের দোকানকোঠা দিয়েছি। কিন্ত কোনো টাকা পয়সা নিইনি। তবে নির্মাণ ব্যয় নির্বাহের জন্য তারা আমাকে কিছু টাকা দিয়েছে।

পারিবারিক সম্পত্তির উপর দোকানকোঠা বানাতে অন্যরা কেন ব্যয়ভার নির্বাহ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমাদের নিজেদের ব্যাপার। সব বিষয়ে নাক গলাতে না যাওয়ার জন্য তিনি বলেন।

এ সম্পর্কে সাবেক ভিপি-জিপি অ্যাডভোকেট এ এইচ ইরশাদুল হক বলেন, পারিবারিক দেবোত্তর সম্পত্তি বলতে আইনে কিছু নেই। দেবোত্তর সম্পত্তির কমিটি অডিটর করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। সেবায়েত কর্তৃক স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা বিক্রির এখতিয়ার আইনে নেই।

Sharing is caring!

Loading...
Open