সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে নগরীর দক্ষিণ সুরমা

নিজস্ব প্রতিনিধি:: নগরীর দক্ষিণ সুরমায় এবার সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ৩ টি ওয়ার্ড নগরীর দক্ষিণ সুরমায় রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, পাসপোর্ট অফিস, সিলেট শিক্ষাবোর্ড ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাছাড়া নগরীর প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই এলাকার অপরাধ প্রবণতা একটু বেশি লক্ষণীয়। এ কারণে দক্ষিণ সুরমার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রথম বারের মতো দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বসানো হচ্ছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। ইতোমধ্যে কিন ব্রিজের শেষ অংশ থেকে রেলওয়ে স্টেশন হয়ে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার কেবল টানানো হয়েছে। এসব সব মিলিয়ে ১৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই সপ্তাহ পর সিসি ক্যামেরাগুলো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন সিটি কপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগে উত্তর সুরমার বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেগুলো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো কাজে আসেনি। সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তারপরও অপরাধ ছিনতাই কমেনি। এসব ক্যামেরা লাগিয়ে সুনামের প্রয়োজন নেই। শহরের যেসব জায়গায় সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। এতে অপরাধ ছিনতাই রয়ে গেছে। সঠিকভাবে এসব ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে হয়তো অপরাধ আরো কমে আসত। এজন্য দক্ষিণ সুরমায় লাগানো সিসি ক্যামেরার সঠিক তদারকি করতে হবে।
নগরীর কদমতলি স্বর্ণশিখা সমাজ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমদ বলেন, সিসি ক্যামেরা বসানো এটি একটি মহতি উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়ন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অপরাধী ধরতে অনেকটা সহজ হবে। অপরাধ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন বলেন, সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে অপরাধ জগতের আস্তানা খ্যাত বাস টার্মিনাল, সিলেট রেল স্টেশন এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ছিনতাই, চুরি ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ রোধে সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরা নগর কর্তৃপক্ষ স্থাপন করলেও এগুলোর মনিটরিং করবে প্রশাসন। এ কারণে অপরাধীদের সহজে চিহ্নিত করা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open