বিশ্বনাথে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল কিশোরী

নিজস্ব প্রতিনিধি:: ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের’ প্রেরিত সংবাদের ভিত্তিতে ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে ১৭ বছরের কিশোরী রুকসানা বেগম। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের সাহেবনগরের ফয়জুল হকের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। এসময় মেয়ের প্রাপ্ত বয়সের (১৮ বছর পূর্ণ হলে) পর রুকসানাকে বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অঙ্গিকার করেন অভিভাবকরা।

জানা যায়, উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের ফয়জুল হকের মেয়ে রুকসানা বেগম জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী ২০০০ সালের ২০শে আগস্ট জন্মগ্রহণ করে। সে অনুসারে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রুকসানার বয়স ১৭ বছর ৩ মাস। অপ্রাপ্ত বয়সে ওই কিশোরীর সঙ্গে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের আকলু মিয়ার ছেলে রুকন মিয়া সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। উভয়পক্ষ লামাকাজী ইউনিয়নের চন্দ্রবান কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের সকল আয়োজনও সম্পন্ন করেন। আমন্ত্রতি অতিথিবৃন্দ কমিউনিটি সেন্টারে আসতেও শুরু করেন। বাল্যবিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে কনের বাড়িতে থানা পুলিশ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ উপস্থিত হন ইউএনও। এসময় ইউএনও কনের পরিবারের অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাল্যবিয়ের কুফল তুলে ধরে বাল্যবিয়ে না দেয়ার জন্য রুকসানার পরিবারকে বুঝিয়ে বলেন। ইউএনওর কথা শুনে বাল্যবিয়েটি ভেঙ্গে দেন রুকসানার পরিবার এবং রুকসানাকে প্রাপ্ত বয়স (১৮ বছর) পূর্ণ হওয়ার পর বিয়ে দিবেন বলে অঙ্গিকার করেন। এমনকি আগামী রবিবার লিখিতভাবেও অঙ্গিকারনামা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন রুকসানার অভিভাবকরা।

এসময় ইউএনও’র সঙ্গে ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমেদ, লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এনামুল হক এনাম মেম্বার, প্যানেল চেয়ারম্যান-২ হেলাল মিয়া মেম্বার, ইউপি সদস্য ফয়ছল আহমদ, কাঞ্চন চক্রবর্তী, থানার এসআই মিজানুর রহমান, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য অসিত রঞ্জন দেব।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, আগামী রবিবার উভয় পক্ষ ইউপি কার্যালয়ে এসে লিখিত অঙ্গিকারনামা দেবেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open