১৪ বছরেও শেষ হয়নি বিয়ানীবাজার ‘মহিলা শিক্ষক হোস্টেলের’ কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি:: বিয়ানীবাজারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রমোট প্রজেক্ট এর আওতায় শিক্ষিকাদের আবাসিক ভবন মহিলা শিক্ষক হোস্টেল এর নির্মাণ কাজ ২০০২ সালে শুরু হয়েছিলো। উপজেলা চত্বরে অবস্থিত শিক্ষিকাদের আবাসিক মহিলা শিক্ষক হোস্টেলটি ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ ভবনের কাজ শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবনের ৮০ ভাগ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর প্রজেক্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় অবশিষ্ট কাজ ঝুলে রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেও এ ভবন নিয়ে কোন দিক নির্দেশনা পাচ্ছে না উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। প্রমোট প্রজেক্টের আওতায় নির্মিত মহিলা শিক্ষিকাদের আবাসিক ভবনের অসমাপ্ত কাজ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ২০০৭ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করে। চিঠিতে উপজেলা প্রশাসনের আবাসিক ভবন ও জায়গার স্বল্পতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সে চিঠির উত্তর গত ১০ বছরেও আসেনি। ফলে ভবনটি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন অস্বস্তিতে রয়েছে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০১-২০০২ অর্থ বছরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শিক্ষামন্ত্রণালয়ের প্রমোট প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষিকাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণে অর্থায়ন করে। সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ প্রজেক্টের আওতাধীন ‘মহিলা শিক্ষক হোস্টেল’ ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বিয়ানীবাজার উপজেলা চত্বরের এ ভবনটি অসমাপ্ত থাকে।

সরেজমিনে বিয়ানীবাজার উপজেলা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতল এ ভবনের আশপাশে জঙ্গল রয়েছে। ভবনের ৮০ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হলেও দেয়ালে পলেস্তারা ও দরজা-জানালা লাগানো হয়নি। বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ ও বাথরুম ব্যবহার উপযোগী হলে ভবনটি ব্যবহার করা যাবে। ভবনে বাথরুমসহ ৬টি কক্ষ, রান্নাঘর, খাবার ঘর, অপেক্ষমান ঘর রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, এখানে (২০০৭) আসার পর থেকে ভবনটি এভাবেই দেখতে পাচ্ছি। এ ভবন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোন নির্দেশনা পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ২০০৭ সালে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে এ ভবন নিয়ে চিঠি প্রেরণ করেছিলেন। এছাড়া এ ভবনের আর কোন তথ্য আমার কাছে নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মু: আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের আবাসিক ভবনের সল্পতা রয়েছে। একই সাথে বাড়ছে চত্বরের ভেতরে জায়গার চাহিদা। ফলে এ ভবনটি কিছুটা হলেও আক্ষেপ বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে শীঘ্রই যোগাযোগ করা হবে।

Sharing is caring!

Loading...
Open