মাঝ আকাশে স্বামীর পরকীয়া ধরে ফেলায়…

কাতার এয়ারওয়েজের প্রতীকী ছবি: এএফপি

সন্তানসহ উড়োজাহাজে দোহা থেকে বালি যাচ্ছিলেন ইরানের এক দম্পতি। মাঝ আকাশে ছুটে চলেছে উড়োজাহাজ। এমন সময় স্বামীর পরকীয়ার বিষয়টি ধরে ফেলেন স্ত্রী। শুরু হয়ে যায় দুজনের কলহ। কলহ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, চেন্নাই বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন পাইলট। পরে শিশুসন্তানসহ ওই দম্পতিকে চেন্নাইয়ে নামিয়ে আবার বালির উদ্দেশে যাত্রা করে উড়োজাহাজটি।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার সকাল ১০টার দিকে কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৯৬২ (দোহা-বালি) ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজে যাওয়ার সময় সিটে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ওই ব্যক্তি। এই সুযোগে স্বামীর আঙুলের ছাপ নিয়ে তাঁর মোবাইল ফোনটি আনলক করেন স্ত্রী। স্বামীর মোবাইল আনলক করেই চোখ কপালে উঠে যায় তাঁর। মোবাইল ফোন ঘেঁটে দেখেন, অন্য এক নারীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরকীয়া রয়েছে। আর দিনের পর দিন তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছে স্বামী। সচিত্র প্রমাণ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই নারী। চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় স্বামীর। শুরু হয় তর্কযুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে ঘুম ভেঙে যায় অন্য যাত্রীদের। এ সময় উড়োজাহাজের ক্রুরা এগিয়ে এসে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু উল্টো ওই নারী ক্রুদের সঙ্গেও রাগারাগি করেন। উপায়ান্তর না দেখে যোগাযোগ করে চেন্নাই বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ জরুরি অবতরণ করেন পাইলট। সেখানেই শিশুসন্তানসহ ওই দম্পতিকে নামিয়ে আবার বালির উদ্দেশে যাত্রা করে উড়োজাহাজটি।

কাতার এয়ারওয়েজের জ্যেষ্ঠ একজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, সম্ভবত ওই নারী মদ্যপ ছিলেন। ফ্লাইটটি চেন্নাইতে অবতরণের কোনো কথা ছিল না। কিন্তু তারপরও তাঁদের দাম্পত্য কলহ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, চেন্নাইয়ে জরুরি অবতরণ করতে হয়। পরে তাঁদের সেখানেই নামিয়ে যাত্রা শুরু করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ওই দম্পতিকে বিমানবন্দরেই বসিয়ে রাখেন। সেখানে তাঁরা একটু শান্ত হলে অন্য একটি উড়োজাহাজে করে তাঁদের কুয়ালালামপুর পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

চেন্নাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইরানের ওই দম্পতির ভারতীয় ভিসা না থাকায় তাঁদের বিমানবন্দরেই বসিয়ে রাখা হয়েছিল। শান্ত হওয়ার পর তাঁরা বালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দোহায় ফিরে যেতে চান। এ কারণে তাঁদের দোহার ফ্লাইট ধরতে বাটিক এয়ার ফ্লাইটে করে কুয়ালালামপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

কাতার এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রীদের সম্মান রক্ষায় তারা ওই দম্পতির নাম প্রকাশ করেনি। তা ছাড়া এ ব্যাপারে আর কোনো মন্তব্যও তারা করবে না।

Sharing is caring!

Open