ব্লাগার অভিজিৎ হত্যা, গ্রেফতারকৃত সোহেলের স্বীকারোক্তি

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল ওরফে সাকিবকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
সে নিষদ্ধি জঙ্গি সংগঠন সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বর্তমানে আনসার আল ইসলামের ইন্টেলিজেন্স শাখার সদস্য।

আজ সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান।
আসামিকে গ্রেপ্তার করা সংক্রান্তে প্রতিবেদন দাখিল করে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে আবেদন করেন।

এর প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবীব আসামির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সোহেলকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে সিটিটিসি। বলা হয়, ‘সোহেল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (পুরোনো নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সক্রিয় সদস্য। সে অভিজিৎ রায় হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল বলেছে, তাদের সংগঠনের বড় ভাই জিয়ার (মেজর জিয়া) নির্দেশে সে ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

আরো বলা হয়, অভিজিৎ রায়কে যেখানে হত্যা করা হয়, তার আশপাশ থেকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। এরপর সোহেলসহ ছয়জনকে ধরিয়ে দিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ফেসবুক পেজে ছবি দেওয়া হয়।
পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে নিহত অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। লেখালেখির কারণে জঙ্গিদের হুমকির মুখেও বইমেলা অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা চলাকালে বাংলা একাডেমি থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে ফুটপাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎ রায়কে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা স্ত্রী বন্যা আহমেদও হামলার শিকার হয়ে একটি আঙুল হারান।

ঘটনার পর শাহবাগ থানায় অভিজিতের বাবার দায়ের করা এ হত্যা মামলায় এর আগে আটজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ‘প্রধান সন্দেহভাজন’ মুকুল রানা ওরফে শরিফুল খিলগাঁওয়ে গত বছরের ১৯শে জুন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এ মামলার নথিদৃষ্টে দেখা যায়, হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে এখনো পর্যন্ত আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে। সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে গ্রেপ্তার করা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে তারা বর্তমানে কারাগারে।

এরা হলেন, জাফরান হাসান, শফিউর রহমান ফারাবী, তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলী, আবুল বাশার, জুলহাস বিশ্বাস, আমিনুল ইসলাম ও মান্না ইয়াসির ওরফে রাহীর।

Sharing is caring!

Loading...
Open