শ্রীমঙ্গলে বাল্য বিবাহের প্রচেষ্টা,মা এবং বরের কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অল্পের জন্য বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল ইতি আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরী কন্যা।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রিট মো:মোবাশশেরুল ইসলাম মেয়ের মা নাজমা আক্তার ও বর আব্দুল মতিনকে কারাদন্ড প্রদান করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার সন্ধায় পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের আপ্তাব উদ্দিন সড়ক এলাকায়। বাল্য বিবাহের শিকার কিশোরী ইতি আক্তার মৃত মিজানুর রহমানের সর্বকনিষ্ট কন্যা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজেষ্টেট মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাজমার বাসায় গিয়ে দেখি কিশোরী মেয়েটিকে বিয়ের দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মেয়েটিকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিল মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের কাছে মেয়েটির বয়স জানতে চাইলে তারা গত ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৬ ইং তারিখে ইস্যু করা শ্রীমঙ্গল পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত একটি জন্ম সনদ দেখায়, যেটাতে উল্ল্যেখ করা মেয়েটির জন্ম ১৭,০১,১৯৯৮ সাল। যেহেতু আমাদের কাছে একটি খবর ছিল এবং মেয়েটিকে দেখেও বুঝা যাচ্ছিল তার বয়স ১৫/১৬ এর বেশি হবে না।

তাই প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী সার্টিফিকেট দেখি। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত সেই সার্টিফিকেটে মেয়েটির জন্ম তারিখ উল্ল্যেখ ছিল ১১.০৩.২০০১ সাল, আর্থ্যাৎ মেয়েটির বয়স ১৮ হতে আরো ২ বছর বাকী।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েটির বযস ১৮ হয়নি এটা বলার পরও তারা আমাদেরকে বাঁধা দেয় যে মেয়েটিকে বিয়ে দিবেই।

ছেলের আগের দুইটা স্ত্রী আছে, ১৩ ও ৬ বছরের দুই ছেলে ও ৯ বছরের এক মেয়ে থাকার পর এবং স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে কিশোরী মেয়েটিকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নেওয়ায় সে অপরাধী। আর সে সরকারী কাজে বাধা দেয় এবং বিয়ে করবে বলে।

তাই দন্ড বিধির ১৮৬ ও ১৮৮ ধারা অনুযায়ী বরকে ২১ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয় এবং মেয়েটির মা মহিলা এবং বয়স্ক বিধায় তাকেও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারা দন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে’।

তবে কিভাবে পৌরসভা থেকে মেয়েটির বয়স বাড়িয়ে জন্ম সনদ দেওয়া হলো সেটা খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান।

Sharing is caring!

Loading...
Open