দিরাইয়ে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষের হত্যা মামলায় ০৫ জন আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ-দিরাই উপজেলার মধ্যবর্তি ভছার হাওরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে আব্দুল হান্নান নামের ১ জেলে নিহতের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে নিখিল চন্দ্র তালুকদার, সুজন তালুকদার, ভূপতি তালকদার, যোগেন্দ্র তালুকদার। দিরাই উপজেলার ঘটনাস্থলের গ্রাম খাগাউড়া থেকে দিরাই ও জামালগঞ্জ থানার পুলিশ অরুণ দাশ নামের একজন কে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় দিরাই উপজেলা আ’লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদারসহ ৩১ জনের বিরোদ্ধে গতকাল জামালগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিহতের নিকট আত্মীয় দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সেচনী গ্রামের সিদ্দিক আলীর পুত্র মতিউর রহমান বাদী হয়ে জামালগঞ্জ থানায় এ মামলাটি করেন।

মামলা নং ০১-তারিখ ৫.১০.১৭ ইং। এ মামলায় দিরাই উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদার নতুন করে আবারো হত্যা মামলার আসামী হলেন। গতবছর দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের জারলিয়া জলমহাল দখল নিয়ে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের বন্দুক যুদ্ধে তিন জেলে নিহত হয়। ঐ ঘটনায় দিরাই উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক সহ ৩৯ জনের বিরোদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে দিরাই উপজেলার সরকারী দলের নেতারা একের পর এক হত্যা মামলার আসামী হওয়ার বিষয়টি গতকাল দিনভর জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলায় “টক অব দ্যা টাউনে” পরিনত হয়।

মামলার বিবরন থেকে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের সেচনী গ্রামের বাসিন্ধা জেলেরা জামালগঞ্জ থানাধীন ভছার হাওরে উন্মোক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে জিবীকা নির্বাহ করেন। পাশ্ববর্তী খাগাউড়া গ্রামের শৈলেন তালুকদারের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন তাদের কে হাওরে মাছ ধরতে কিছু দিন যাবৎ বাধা নিষেধ করে আসছে। এ প্রেক্ষিতে গত ১৫.১০.’১৭ তারিখ রফিনগর ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উভয় গ্রামের লোকজন মিলেমিশে মাছ ধরার বিষয়ে আপোষ মিমাংশা করে দেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ভছার হাওরে মাছ ধরতে গেলে শৈলেনের নেতৃত্বে তাদের লোকজন ৩-৪ টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে জেলেদের উপর দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে হামালা চালায়। তাদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে নৌকয় থাকা সকল জেলে আহত হন। আহত সকলের মাঝে জেলে আব্দুল হান্নান (রাষ্ট্র মিয়া) কে আটক করে নিয়ে যায় তারা। ঘটনার পর থেকে রাত ব্যাপী অনেক চেষ্টা করেও আ:হান্নান (রাষ্ট্র মিয়) কে উদ্ধার করতে পানেনি তার স্বজনরা। শনিবার বিকেলে হাওরে আ:হান্নান (রাষ্ট্র মিয়া) এর ভাসমান লাশ দেখতে পায় সেচনি গ্রামের লোকজন। এর পর পুলিশ কে খরব দিলে জামালগঞ্জ থানার পুলিশ হাওরে ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনরা জানান, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে কৌশলে তা-ব কারীদের কয়েক জনকে আহত দেখিয়ে শুক্রবার রাতে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন দিরাই উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খাগাউড়া গ্রামের বাসিন্দা অভিরাম তালুকদার। অনেক নাটকীয়তার পর বিকেলে আ:হান্নান (রাষ্ট্র মিয়া) এর লাশ হাওরে ভেসে উঠার সংবাদ পেয়ে ভর্তিকৃতদের হাসপাতাল থেকে পালাতে সাহায্য করেন অভিরাম তালুকদার। পুলিশ খবর পেয়ে দিরাই হাসপাতালে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসেন। দিরাই থান পুলিশ শনিবার সন্ধ্যার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিরাই উপজেলা আ’লীগ নেতা অভিরাম তালুকদারের দিরাইয়স্থ মজলিশ পুর বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪ জন কে আটক করলেও বাকীরা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো: আবুল হাসেম জানান, জামালগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। ৫ জন কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের কাজ অব্যাহত আছে। মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর তার স্বজনদের কাছে হস্থাস্তর করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) বেলায়েত হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে গ্রামের শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open