আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে এখন নগরীর ফুটপাতের নিয়ন্ত্রক কারা?

সুরমা টাইমস ডেস্ক::     আদালতের নির্দেশে ক’মাস আগে সিলেট নগরীর ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং দখলদারীদে নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করায় তারা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে। এত কিছুর পরও থেমে নেই নগরীর ফুটপাত দখলের প্রতিযোগীতা। এখন সবার মুুখে একটাই প্রশ্ন বর্তমান হকার কাদের নিয়ন্ত্রনে? এখন দেখা যায় বেপরোয়া হকাররা এবার শুধু ফুটপাত দখল করেনি, কোনো কোনো সড়কের অর্ধেক, এমনকি ক্বীন ব্রিজেও চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। সিসিক মেয়র আরিফুল হক বলছেন, এটি প্রত্যক্ষভাবে আদালত অবমাননা। হকাররা বলছেন, ফুটপাত ও রাস্তায় ব্যবসা করার বিনিময়ে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের প্রতিদিন টাকা দিচ্ছেন তারা। আদালতের নির্দেশে গত রোজায় সিলেট নগরীর ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়। বেপরোয়া হকাররা এবার সেই আদালতের সামনের সড়ক ও ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। আদালতের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে শুধু আদালত নয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা পরিষদ ও গোটা জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনের ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হকাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক হকাররা জানান পুলিশকে প্রতিদিন টাকা দিয়েই তারা এখানে ব্যবসা করছেন । হকাররা আরও বলেন, মার্কেটে যাওয়ার ক্ষমতা নেই আমাদের। তাই চাঁদা দিয়েই এখানে ব্যবসা করছি। পুলিশকে আগে দুই টাকা করে দিতাম। হকারদের মতো অরাজকতা চালাচ্ছেন কিছু ব্যবসায়ীরাও। সামনের ফুটপাত দখল করে দোকানের সাথে সংযুক্ত করেছেন তারা। এতে পথচারীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। অধিকাংশ পথচারীরা কিছুটা ক্ষোভের স্বরেই বলেন, সন্ধ্যার পর দেখা যায় এখানে প্রচুর ভ্যান। তারা নিজেদের মতো রাস্তা দখল করে ব্যবসা করে। এতে আমাদের চলাচলে সমস্যার তৈরি হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রভাবশালীদের সহায়তায় হকাররা আবারও ফুটপাত দখল করে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন সচেতন মহল, কোনো  উৎসাহ ছাড়া হকাররা এখানে বসার সাহস পায়নি। এদের পেছনে নিশ্চই কেউ না কেউ আছেন,যারা প্রত্যক্ষ বা পরক্ষো ভাবে তাদের সহযোগীতা করছেন। ক্বীন ব্রিজের উপর চাঁপ কমাতে যেখানে রিক্সা ছাড়া অন্য যানচলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নীরবতায় ব্রিজের ওপরও স্থায়ীভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন হকাররা।

Sharing is caring!

Loading...
Open