শিশু খাদিজাকে ধর্ষনের পর হত্যা : সুষ্ঠু তদন্ত, আসামিদের গ্রেফতারের মায়ের দাবী

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: তৃতীয় শেনীতে পড়ুয়া শিশু খাদিজার (১০) মা কুলছুমা বেগম দাবি করেছেন গৃহকর্তা কামরুল ইসলাম ধর্ষনের পর তার মেয়েকে হত্যা করেছে। ধর্ষন ও হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্যই কামরুল তাড়াহুড়ো করে তার মেয়ের লাশের গোসল দিয়ে রাতারাতি কবর দিতে ছেয়েছিল। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ভাটি তাহিরপুর গ্রামের আলীনুরের স্ত্রী কুলছুমা সোমবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। কুলছুমার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার আত্মীয় কামরুল হাসান।

কুলছুমা জানান, তিনি পরিবার নিয়ে ২৫ বছর যাবত সিলেটে গোলাপগঞ্জে বাস করছেন। অভাবের তাড়নায় ৪ মাস আগে তার ১০ বছরের শিশু খাদিজাকে গোলাপগঞ্জের বনগ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে কামরুলের ঘরের কাজে দেন। গত ৪ঠাা আগস্ট রাত আনুমানিক ৯’টার সময় কামরুল কুলছুমার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে জানায় তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাৎক্ষনিক কামরুলের বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন নিস্তেজ খাদিজার মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে। এ দৃশ্য দেখেই কুলছুমা সংজ্ঞা হারান। পরে খাদিজাকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এরপর তাকে কামরুলের বাড়িতে এনে গোসল দেয়া হয়। কামরুল ও তার আত্মীয়স্বজন গভীর রাত ১টার সময় দাফনের উদ্যোগ নিলে কুলছুমা কৌশলে তাদের বিরত রেখে পরদিন গোলাপগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন।

৫ই আগষ্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ থানার এস আই দিলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্র্ট তৈরি করে এবং ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় গৃহকর্তা কামরুলকেও আটক করা হয়। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের পরনের কাপড়চোপড় আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছিল কিনা কিংবা তা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছিল কিনা তা সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি বলে কুলছুমা অভিযোগ করেন।

লাশ উদ্ধারের পর গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম ফজলুল হক শিবলির নির্দেশে পুলিশের লেখা একটি এজাহার নামায় আমার স্বাক্ষর নেয়া হয়। ঐ এজাহারটি ছিল অসম্পূর্ন। কিন্তু ঐ সময় ভালো মন্দ বোঝার মত জ্ঞান আমার ছিল না। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কামরুলকে রিমান্ডে নেয়। কিন্তু তারা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাঠন করতে পারেনি বলে জানায়। মূলত কামরুলের পরিবার ও তাদের আত্মীয়স্বজন খুবই প্রভাবশালী। তারা পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছেন।

খাদিজা হত্যার ৩ মাস হয়ে গেছে, এখনও ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসেনি। তাছাড়া কামরুলের পরিবার মামলার ব্যাপারে আপোস করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে কুলছুমা অভিযোগ করেন। এমনকি তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে কুলছুমার ছেলেমেয়েদের হত্যা করার এবং আত্মীয়স্বজনকে মামলা দিয়ে এলাকা থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দিচ্ছেন। ঘটনার পর মানসিক নির্যাতনে কুলছুমার স্বামী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রানের ভয়ে তারা গোলাপগঞ্জ ছেড়ে তাহিরপুরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। তাই খুনের সঠিক রহস্য উদঘাটনের জন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সাথে জড়িত আসামীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে কুলছুমা দাবি করেন। তিনি বলেন কামরুল প্রায়ই তার মেয়েকে উত্যক্ত করত এবং বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়েছিল। তাই কামরুলে মা সবকিছু জানেন উল্লেখ করে কুলছুমা বলেন কামরুলের চাচাতো ভাই বিলাল আহমদ খাদিজাকে ধর্ষনের ঘটনায় সহযোগিতা করেছে।

তাই কামরুলকে প্রধান আসামী করে তার মা বেদানা বেগম, চাচাতো ভাই বিলাল, আত্মীয় মাছুম আহমদ, কবির আহমদ ও আতাউর রহমানকে আসামী হিসেবে মামলার মূল এজাহারভূক্ত করার জন্য মাননীয় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত সিলেটে দরখাস্ত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আদেশজারির ১ মাস পরও পুলিশ এ ব্যপারে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাছাড়া কামরুলের পরিবার আদালত থেকে তার জামিন মঞ্জুরের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাই খাদিজা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে খাদিজার মা দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনসহ সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open