বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের শাহাদৎ বার্ষিকী আজ

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: আজ ২৮শে অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের ৪৬তম শাহাদৎ বার্ষিকী।

এ উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে পূস্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় এমপি, উপজেলা প্রশাসন ও শহীদের পরিবারের সদস্যরা।

তার নামে নির্মিত মহাবিদ্যালয়ে ও নিজ গ্রাম খর্দ্দখালিশপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মহেশপুরের সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ জার্নালকে জানিয়েছেন, সকাল ৯ টায় কলেজে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৪৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার চামড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে জন্ম হয় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের। তার পিতার নাম মরহুম আক্কাস আলী এবং মাতার নাম মরহুম কায়ছুন নেছ।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তাদের পরিবার বৃহত্তর যশোরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দখালিশপুর গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। সাত ভাই-বোনের মধ্যে হামিদুর রহমান ছিলেন সবার বড়। সংসারে অভাব অনটনের কারণে বাবা আক্কাস আলীর সাথে তিনি মজুরের কাজ করতেন।

১৯৭১ সালের ২রা ফেব্রয়ারি হামিদুর রহমান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সে সময় দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের ঢেউ শুরু হয়। তাকে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার চট্রগ্রামে।

২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর আক্রমণ শুর করলে চট্টগ্রামেই প্রথম সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রথম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। হামিদুর রহমানও ওই যুদ্ধে অংশ নেন। শ্রীমঙ্গলে দক্ষিণপূর্ব কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই সীমান্তে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শক্রপক্ষের দুজন সৈন্যকে ঘায়েল করেন। এরপর শত্রু পক্ষের গুলিতে ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সকালে শাহাদৎবরণ করেন হামিদুর রহমান। তখন তার সহযোদ্ধারা মরদেহ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলই জেলা সদর আমবাসার ৮৬ কিলোমিটার দুরে হাতিমারাছড়া গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।

৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১০ই ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ ঢাকায় এনে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

Sharing is caring!

Loading...
Open