হবিগঞ্জে চলন্ত গাড়িতে তরুণীকে ধর্ষণ,তদন্তে পুলিশের ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিনিধি:: ফের চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের শিকার এক তরুণী। ধর্ষণের পর চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়া হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। হবিগঞ্জের শাহজীবাজার রাবার বাগানে গত রবিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই তরুণীকে গত সোমবার ভোরে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা গত বুধবার দুপুরে তার মেডিকেল চেকআপ করেন। এতে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত মিলেছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। কোনও মামলাও হয়নি। এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হবিগঞ্জের বিভিন্ন মানবাধিকার ও মহিলাবিষয়ক সংস্থাগুলো।

ওই তরুণীর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামে। বাবার মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়ে দুই বোন ও মাসহ তিন সদস্যের পরিবার। জেলার অলিপুরে প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে কাজ শেষে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। গাড়ির জন্য অপেক্ষারত ওই তরুণী এ সময় তার পূর্বপরিচিত চুনারুঘাট উপজেলার বড়কুটা গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র ম্যাক্সিচালক লিটন তাকে দেখতে পেয়ে তার ম্যাক্সিতে উঠতে বলে। এ সময় গাড়ির পেছনে অপরিচিত দুই যুবকও ছিল।

ম্যাক্সিচালক লিটন গাড়িটি শায়েস্তাগঞ্জের দিকে না নিয়ে শাহজীবাজার রাবার বাগানে নিয়ে যায়। তখন মেয়েটি লিটনকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, আরও দুজন যাত্রী আনতে যাচ্ছে। বাগানে নিয়ে যাওয়ার সময় চলন্ত গাড়িতে অপরিচিত ওই দুই যুবক তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সে চিৎকার শুরু করলে লম্পটরা ওই যুবতীর মুখে গামছা বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে বাগানে ফেলে দিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন ওই তরুণীকে উদ্ধার করে গত সোমবার ভোরে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়ায় ওই তরুণীর একটি পা ভেঙে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গত বুধবার হাসপাতালে তরুণীকে দেখতে যান বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। হবিগঞ্জের মানবাধিকারকর্মী রুমা মোদক জানান, এটি হবিগঞ্জের তথা সারা দেশের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা। ঘটনার দুই দিন অতিবাহিত হলেও কোনও আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি; যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জেলা প্রশাসক মণীষ চাকমা বলেন, স্থানীয় পত্রিকার সুবাদে ঘটনাটি আমি জেনেছি। মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Sharing is caring!

Loading...
Open