যাত্রা শুরু হলো তামাবিল স্থলবন্দরের

নিজস্ব প্রতিবেদক:: সিলেটে তামাবিল স্থলবন্দরের উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার (২৭শে অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে স্থলবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোঃ নজিবুর রহমান, নৌ পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. আব্দুস সামাদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, দুপুর পৌনে ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান অর্থমন্ত্রীসহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা। তামাবিল দেশের ১১তম ও সিলেটের প্রথম স্থলবন্দর।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬৯ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তামাবিলে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মান ও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। স্থল বন্দরে উন্নীতের ঘোষণার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৫ সাল থেকে স্থল বন্দরের জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মান কাজ শুরু হয়। সে সময় ২০১৬ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্মান কাজের ধীরগতির কারণে গত বছরে তা চালু হয়নি।

তামাবিল দিয়ে প্রধানত কয়লা, চুনাপাথর, পাথর ও ফল আমদানি করা হয় এবং প্রসাধন সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও ইট রফতানি করা হয়।

তামাবিলে কোন স্থাপনা না থাকায় এতোদিন আমদানিকারকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাড়া করা জায়গায় আমদানিকৃত মালামাল সংরক্ষণ ও লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করতেন বলে জানান আমদানীকারকরা। দেশের ব্যস্ততম এই শুল্ক স্টেশনে ওয়েটব্রিজ না থাকায় আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যের সঠিক ওজন পরিমাপ করতে না পারায় সরকারও প্রচুর পরিমাণ শুল্ক হতে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য শুল্ক কর্মকর্তাদের। তামাবিলে স্থল বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে সিলেটের কাছাকাছি থাকা ভারতের সাত রাজ্যের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।

সংশ্লিস্টরা জানান, শুল্ক স্টেশনকে বন্দরে উন্নীতের কার্যক্রমের মধ্যে ২৩.৭২ একর ভূমি অধিগ্রহণ, এক লাখ নয় হাজার ৩৩০ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, দুই হাজার ৫০০ মিটার সীমানা দেওয়াল তৈরি, আট হাজার ১৮০ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ, ২৭ হাজার বর্গমিটার ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড নির্মাণ, ৭৪৪ বর্গমিটার ওয়্যারহাউস নির্মাণ, এক হাজার ৩৪৯ বর্গ মিটার অফিস, ডরমেটরি ও ব্যারাক ভবন নির্মাণ, দুই হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণ, দুটি ওয়েটব্রিজ ও দুটি ১০০ মেট্রিকটন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওয়েহিং স্কেল এবং পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার ফটোকপি, জীপসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করা হয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা।

Sharing is caring!

Loading...
Open