ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েই রাজনীতিতে এসেছি-খালেদা জিয়া

সুরমা টাাইমস ডেস্ক:: দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি তিন যুগ আগে রাজনীতিতে পা রাখি। সেদিন থেকে বিসর্জন দিয়েছি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য।’জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়া এই বক্তব্য দেন। গত ১৯শে অক্টোবর তিনি এই মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে আংশিক বক্তব্য রাখেন। আজও তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তার বক্তব্য এখনো শেষ হয়নি। আগামী ২রা নভেম্বর খালেদা জিয়া আবার আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্য দেবেন।
বক্তব্যের শুরুতেই খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমাকে একটু দীর্ঘ সময় দেবেন। অনুগ্রহ করে আমার কথাগুলো শুনবেন। আমাকে আমার পুরো বক্তব্য তুলে ধরতে সুযোগ দেবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি কেন রাজনীতিতে এসেছিলাম? কেন ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত পথে পা দিয়েছিলাম? তখন আমার সামনে মসনদ কিংবা ক্ষমতার কোনো হাতছানি ছিল না। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা অবৈধ দখলদাররা চায়নি আমি রাজনীতিতে আসি।’ এ সময় তিনি জানান, দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করেই তিনি স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দলের হাল ধরেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে টেনে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভাপতির বিরুদ্ধেও মামলা ছিল। কিন্তু তাঁর পরম সৌভাগ্য আমার মতো তাঁকে আদালতে হাজির হতে হয়নি। ক্ষমতার জোরে মামলা প্রত্যাহার করিয়েছেন।’
বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমি সবসময়ই আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও আদালতে হাজিরা দেয়ার চেষ্টা করি। আমার আইনজীবীরাও সাধ্যমতো আদালতকে সহযোগিতা করছেন। তবুও অনিবার্য কারণে কখনো আদালতে হাজির না হতে পারলে আমার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’
দীর্ঘ বক্তব্যে খালেদা জিয়া তার রাজনীতিতে আসার প্রেক্ষাপট, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open