জয়বাংলা পুরষ্কার জয় করেলো সিলেটের কাকতাড়ুয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:: বাংলাদেশের তরুণ সংগঠকদের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “জয়বাংলা ইয়থ এওয়ার্ড ২০১৭” অর্জন করেছে সিলেটের স্থিরচিত্র ও চলচ্চিত্র বিষয়ক সংগঠন কাকতাড়ুয়া। এর মূল আয়োজক ছিলো সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)’র তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম ইয়ং বাংলা। ঢাকার শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে কাকতাড়–য়ার সভাপতি খলিলুর রহমান ফয়সালের কাছে জয়বাংলা পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশের হাজার হাজার সংগঠনের মধ্য থেকে সিআরআই চারমাস ধরে ৮২টি অধিবেশনের মাধ্যমে ১৩শ’ আবেদন গ্রহণ করে। এর মধ্য থেকে সেরা সংগঠনগুলো নিয়ে যাচাই বাছাই শুরু হয় এবং ৫০টি সেরা সংগঠনের নাম প্রকাশ করে। নির্বাচিত ৫০টি সংগঠনের মধ্যে ৩০টি সংগঠনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। তার মধ্যে কমিউনিটি উন্নয়ন ক্যাটাগরিতে সেরা হয় সিলেটের কাকতাড়ুয়া। পরবর্তীতে ফাইনাল রাউন্ডে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ট দশটি সংগঠনের অন্যতম হিসেবে কাকতাড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়।

এর আগে শুক্রবার ইয়াং বাংলার আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাহিম রাজ্জাক অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। তারা বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন। চুড়ান্ত প্রতিযোগিতার দিন প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ সংগঠন হিসেবে কাকতাড়ুয়া ক্রেস্টসহ ল্যাপটপ ও মোবাইল গ্রহণ করে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কাকতাড়ুয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন সাধারণ সম্পাদক তানভীর চৌধুরী পিয়েল, কোষাধ্যক্ষ নাহিদা আক্তার, চলচ্চিত্র বিষয়ক সম্পাদক আমিনা আক্তার, সহস্থিরচিত্র বিষয়ক সম্পাদক অরণ্য ধ্রুব, সহ দপ্তর সম্পাদক নওরিন তন্বী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম কাব্য দাস এবং সদস্য সুর দাস।

১৪২০ বঙ্গাব্দের ১লা আষাঢ় সিলেটের একদল সৃষ্টিশীল তরুন-তরুণীদের নিয়ে গঠিত হয় কাকতাড়ুয়া। নামের সাথে কাজেও বাংলাদেশের অন্যান্য সংগঠন থেকে এটি একটি ব্যতিক্রমী সংগঠন। তাদের সবকাজ হয় ক্যামেরায়। স্থিরচিত্র ধারণ ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে কাকতাড়ুয়া। কদিন আগেই সংগঠনটির চতুর্থ জন্মবার্ষিকী হয়ে গেলো। সামাজিক অসঙ্গতিগুলো তারা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চায়। ইতোমধ্যে তারা নির্মাণ করেছে কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মাদক ও যুব সমাজের অবক্ষয় নিয়ে নির্মিত হয়েছে “ঐশি”, প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে নির্মিত হয়েছে “ভূয়া ডাক্তার”, প্রাণি অধিকার নিয়ে নির্মিত হয়েছে “ঘেউ”, টেলিফোনে প্রতারণা নিয়ে নির্মিত হয়েছে “জ্বিনের বাদশাহ”। এছাড়াও জহির রায়হানের গল্প একটি জিজ্ঞাসা অবলম্বনে কাকতাড়ুয়া নির্মাণ করেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “প্রশ্ন”, সামাজিক অবক্ষয় ধর্ষণের প্রতিবাদে চলচ্চিত্র “সেই মেয়েটা”, মৌসুমী ফল ও শাকসবজীতে বিষ মিশানো নিয়ে “ফল সম্মেলন”। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র আরশি, আঁধারের নীলিমা, শেষ বিকেলে, প্রায়শ্চিত্ত, টিউশনি ইত্যাদি।

সিলেটসহ সারা বাংলাদেশে রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, দোকান, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে ফেসবুক অবধি বাংলা ভুল বানানের ছড়াছড়ি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাকতাড়ুয়া শুরু করেছে বাংলা বানান শুদ্ধি অভিযান। সিলেটের বিভিন্ন রাজপথ, অলিতে গলিতে, মুদিদোকানে বানান শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছে তারা। যেখানে ভুল বানানগুলো লিখা রয়েছে সেখানেই রং তুলি দিয়ে শুদ্ধ করে দিচ্ছে কাকতাড়ুয়া। দোকানমালিক, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষকে তারা শুদ্ধ বানান সম্পর্কে সচেতন করেছে। শুধু তাই নয় পথিমধ্যে ভুলগুলোর জন্য মূল দায়ী যারা অর্থাৎ আর্টের দোকান, প্রিন্টিং প্রেস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালিয়েছেন সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়াও হাওরের গান গেয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে হাওরের বন্যাদূর্গতদের সাহায্য করেছে সংগঠনটি। সামাজিক ও মানবিক এ দায়িত্বের পাশাপাশি কাকতাড়ুয়া বাংলা লোক সংগীতের শুদ্ধতা নিয়েও কাজ হাতে নিয়েছে।

জয়বাংলা ইয়থ এওয়ার্ড ২০১৭ এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, “তরুণদের দেখে ও তাদের কাহিনী শুনে আমার অত্যন্ত আনন্দ ও গর্ব লাগছে। সত্যি কথা বলতে আমি তাদের দেখে ইন্সপায়ার্ড।” পুরস্কার প্রদানকালে সজীব ওয়াজেদ জয় কাকতাড়ুয়ার সভাপতিকে তাদের কাজের জন্য অভিনন্দন জানান। এবং শুধু সিলেটে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেবার আহ্বান জানান। কাকতাড়ুয়াকে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন।

কাকতাড়ুয়ার সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক খলিলুর রহমান ফয়সাল বলেন, “বাস্তবের কাকতাড়ুয়ার মতো সামাজিক অসঙ্গতি দূর করতে চাই আমরা। পৃথিবীটাকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে, ঘুণে ধরা সমাজকে তৃণমূল থেকে সজীবতা ও মানবতাবোধের চেতনায় বদলে দেবার প্রত্যাশায় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সুসংহত করে বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাকতাড়ুয়া বদ্ধ পরিকর। জয় বাংলা পুরষ্কার আমাদের আরো ভালো কাজ করতে অনুপ্রেরণা যুগাবে।”

কাকতাড়ুয়ার বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় একশত। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি, এমসি কলেজ ও মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা এখানে কাজ করছেন।

Sharing is caring!

Open