একবারও অর্থমন্ত্রীর নাম নেননি আয়োজকরা,ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলেন সেলিম

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: প্রবাসীদের মিলনমেলা ‘এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশন’ শুরু হয়েছে আবুল মাল আবদুল মুহিত ক্রীড়া কমপ্লেক্সে। কনভেনশনের জন্য খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে কমপ্লেক্সের মাঠে। মাঠ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। কিন্তু কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপেক্ষিত ছিলেন ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা। আয়োজকরা মূল্যায়ন করেননি কমপ্লেক্সের নির্মাতা সিলেটের কৃতিসন্তান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকেও।

আয়োজকদের এমন খামখেয়ালিপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। ক্ষুব্ধ হন অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে বসা সিলেটের বিশিষ্টজনেরাও।

এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই আভাস মিলছিল বিশৃঙ্খলার। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপক জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত বাজানো হয়নি জাতীয় সঙ্গীত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করানো হয়। কিন্তু বাইবেল, গীতা বা ত্রিপিটক পাঠ করানো থেকে বিরত থাকেন আয়োজকরা। এনআরবি গ্লোবাল কনভেনশনের মতো এমন একটি অনুষ্ঠানে আয়োজকদের এমন কান্ডকে অনেকে সাম্প্রদায়িকতার সাথেও তুলনা করেছেন।

দেশে প্রবাসী নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেয়া ও বিনিয়োগে আগ্রহী করাই এনআরবি কনভেনশনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে জানিয়েছিলেন আয়োজকরা। কিন্তু গতকাল শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে কনভেনশনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেন অনেকে।

এদিকে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী বিনিয়োগে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখলেও আয়োজক সংগঠন ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এনাম আলী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ তাদের বক্তৃতায় একবারও অর্থমন্ত্রীর নাম নেননি। এমনকি জেলা ক্রীড়া সংস্থা কনভেনশনের জন্য মাঠ বরাদ্দ দিলেও সংস্থার কর্মকর্তাদের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। বক্তৃতার সুযোগ দেয়া হয়নি ক্রীড়া সংস্থার কোন কর্মকর্তাকে।

আয়োজকদের এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে অনুষ্ঠাস্থল ত্যাগ করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বাফুফের সদস্য মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।

এ ব্যাপারে মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, ‘আয়োজকরা তাদের আচরণে স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের মধ্যে নূন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ নেই। দুই চেম্বারের সভাপতি তাদের বক্তৃতায় একবারও অর্থমন্ত্রীর নাম নেননি। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংস্থাও ছিল উপেক্ষিত। তাই আমি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে এসেছি।’

Sharing is caring!

Loading...
Open