জুড়ীতে লোকালয়ে শিশু হাতি, ভয়ে নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি;: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় শিশু হাতি ‘বাহাদুর’-এর হামলার ভয়ে মানদা উরাং (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রত্না চা-বাগানের পরি বস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (১৭ই অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণি) মিহির কুমার দো এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মানদা উরাং উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের রত্না চা-বাগানের পরি বস্তি এলাকার সুবল উরাংয়ের স্ত্রী। আর বাহাদুর ‘নূরজাহান’ নামের এক হাতির বাচ্চা। নূরজাহান ও বাহাদুরের মালিক জুড়ী উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাছুম রেজা।

জানা গেছে, পোষা হাতি নূরজাহানের পাঁচ বছরের ছেলে বাহাদুর। জন্মের পর থেকেই বাহাদুর নূরজাহানের কাছেই থাকত। হাতির মালিক বাহাদুরকে এ বয়সেই কাজে নামাতে চান। এজন্য মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে বাহাদুরকে নিবিড় প্রশিক্ষণ (স্থানীয় ভাষায় ‘হাদানি’ অনুষ্ঠান) দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সেজন্য দু’জনকে আলাদা করা হয়। এটা প্রায় ১০ মাস আগের ঘটনা। প্রশিক্ষণ শেষে বাহাদুর মায়ের কাছে ফিরে যায়। তবে কারও ক্ষতি যাতে না করে, মাহুত (হাতি দেখাশোনাকারী ব্যক্তি) রাতে বাহাদুরের পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। সকালে আবার তা খুলে দেয়। সোমবার দুপুরে মাকে আশেপাশে না দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠে বাহাদুর। একপর্যায়ে শিকল ছিঁড়ে মাকে খুঁজতে লোকালয়ে চলে আসে। এসময় তার ধাক্কার ভয়ে চা-শ্রমিক মানদা উরাং মারা যান।

জুড়ী গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নিহত মানদার শরীরে কোনও আঘাত দেখা যায়নি। রত্না বাগানের হাসপাতালের চিকিৎসক গিয়ে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন, হাতির হামলার ভয়ে ওই শ্রমিক (মানদা) স্ট্রোক করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাতির মালিকপক্ষ ওই শ্রমিকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচাপাতি দিয়েছে। এছাড়া আমরাও তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছি। বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কারও কোনও অভিযোগ নেই।’

সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণি) মিহির কুমার দো বলেন, ‘ মূলত হাতির হামলায় ওই চা শ্রমিক মারা যাননি। হাতির এদিক-সেদিক দৌঁড়াদৌড়ি করছিল, তখন ভয়ে স্ট্রোক করে ওই চা শ্রমিক (মানদা) মারা গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নীতিমালায় হাতি পোষা বা তাকে দিয়ে কাজ করানোর কথা আছে। কিন্তু এর রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হয় না। এজন্য হাতির মালিকদের আমরা বারবারই সাবধান করেছি।’

এর আগে জুড়ীর গোয়ালবাড়ী ও কুলাউড়ার মেরিনা চা-বাগানে দুই দফায় পোষা হাতির আক্রমণে দু’জন প্রাণ হারায়। পোষা হাতির রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির কারণেই এভাবে একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।

Sharing is caring!

Loading...
Open