টিলাগড়ে সড়ক অবরোধ : রায়হান ও আজাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ নিহতের
ঘটনায় নগরীর টিলাগড়ে সড়ক অবরোধ করেছে রনজিৎ সরকার
অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিছিল নিয়ে এসে টিলাগড়
পয়েন্টে জড়ো হয় বিক্ষোদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর
পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা ।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ
প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিয়াদ
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় বিক্ষোভকারীরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিক্ষোভকারীদের সাথে আওয়ামী
লীগ নেতা রনজিৎ সরকারও যোগ দেন ।
এসময় বিক্ষোভকারীরা আরেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ২০ নং
ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও জেলা ছাত্রলীগের
সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে
শোনা যায়। বিক্ষোদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ‘আজাদের দুই
গালে জুতা মারো তালে তালে, হৈ হৈ রৈ রৈ রায়হান চোরা
গেল কইসহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে ।
এ সময় ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের
অফিসের সামনে পুলিশ প্রহরা দেখা যায়। অবরোধকালে বিপুল
সংখ্যক পুলিশও টিলাগড় পয়েন্টে অবস্থান নেয়। অবরোধের ফলে
সিলেট–তামাবিল সড়কে যানজট লেগে যায়। বিক্ষোভকালে
রনজিৎ সরকার ছাড়াও শাহপরান থানা আওয়ামী লীগ নেতা
জাহাঙ্গির আলম, ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, সঞ্জয় চৌধুরী,
দেলোয়ার হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিয়াদের খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি
জানিয়েছেন। শাহপরান থানার ওসি আখাতার হোসেন সড়ক
অবরোধের কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশের আশ্বাসে
বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। উল্লেখ্য,
সোমবার বিকেলে নগরীর টিলাগড়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের
ছুরিকাঘাতে নিহত হন ওমর ।
এতে আহত হয়েছেন আরো দুই কর্মী। নিহত মিয়াদ সিলেট জেলা
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু গ্রুপের কর্মী।
তার উপর হামলাকারীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক
এম রায়হান চৌধুরী গ্রুপের কর্মী। আর হিরন মাহমুদ নিপু আওয়ামী
লীগ নেতা রনজিৎ সরকার অনুসারী ও রায়হান চৌধুরী আরেক
আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ অনুসারী বলে
পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, এককালের বন্ধু আজাদ–রনজিতের মধ্যে
বিরোধের ফলেই টিলাগড়ে ঘটছে একের পর এক সংঘাত–
হত্যাকান্ড। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টিলাগড়ে
সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের অফিসে সামনে এ
হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হয়েছেন আহত হয়েছেন আরও দুই
ছাত্রলীগ কর্মী। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর একই এলাকায়
প্রতিপক্ষ গ্রুপের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রলীগের কর্মী
জাকারিয়া মোহাম্মদ মাসুম ।
এ নিয়ে গত ৭ বছরে সিলেটে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন বিরোধে
খুন হলেন ৮ জন। এরমধ্যে তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনাই ঘটেছে
টিলাগড় এলাকায়। নিহত ওমর আলী মিয়াদ সিলেট লিডিং
ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র এবং শহরতলীর বালুচর
এলাকার আকুল মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফখরুল ইসলাম (৩০) নামের এক
যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ফখরুল সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
লাইসেন্স শাখায় কর্মরত। সুত্র থেকে জানা যায়, ফখরুলের ভাই
ছাত্রলীগ কর্মী তোফায়েল ও তার সহযোগীরা মিয়াদ
হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ।
ফখরুল এমন খবর পেয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে সিলেট ওসমানী
মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে যাওয়ার পর মিয়াদের
উত্তেজিত রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার উপর চড়াও হন। এক
পর্যায়ে তারা ফখরুলকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পুলিশ
সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করে থানায়
নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সিলেটে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার
জেদান আল মুসা বলেন ফখরুল এ ঘটনায় জড়িত
ছিলেন কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। সেটি তদন্ত সাপেক্ষে
বেরিয়ে আসবে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সিলেট
কতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open