গোয়াইনঘাটে চা-শ্রমিকদের হাতে যুবক খুনের ঘটনায় ০৪ জন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি:: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর গুলনি চা-বাগানে চা-শ্রমিকদের হাতে নির্মম ভাবে নিহত ফতেহপুর ৩য় খন্ডগ্রামের নুর হোসেনের পুত্র আলী হোসেন হত্যায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আলী হোসেনের ভাই মকবুল হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। গুলনি চা-বাগানের ম্যানেজার আসাদুজ্জামানকে প্রধান আসামী করে এজহারে ১৪ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরো ৩৫/৪০জন কে আসামী করা হয়েছে। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিল্লোল রায়ের নেতৃত্বে সোমবার ভোর রাতে গুলনি চা-বাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এজহার নামীয় ৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে আরো অংশগ্রহণ করেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই বদিউজ্জামান,এসআই জুনায়েদ,এসআই জিয়াউর রহমানসহ ডজন খানেক পুলিশ সদস্য।
গত শনিবার গুলনি চা-বাগানের ভিতরে নিহত আলী হোসেনের ৪টি গরু প্রবেশ করে। গরু গুলি বাগানের রোপায়িত বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা নষ্ট করায় কর্তৃপক্ষ গরুগুলোকে আটক করে। রবিবার গরু গুলোকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য আলী হোসেন ও তার বাবা নূর হোসেন বাগান কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ করেন। কিন্তু বাগানের সহকারী ম্যানেজার কাজী হামিম গরু গুলো না ছেড়ে আলী হোসেনের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যাায়ে এ নিয়ে বাগান কর্তপক্ষ পাগলা ঘন্টা বাজায় । এতে সকল চা-শ্রমিক জড়ো হয়ে আলী হোসেন ও তার ভাই মকবুল হোসেন এবং বাবা নূর হোসেনের উপর আক্রমন চালায়। এ ঘটনায় আলী হোসেন মারাত্মক আহত হন। তাকে দ্রুত ওমসানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিল্লোল রায় সাংবাদিকদের জানান, নিহত আলী হোসেন হত্যার ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। যার নং-৯তারিখ ১৬(১০)১৭ইং। এ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৪জন আসামীকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান,অপরাপর আসামীদের গ্রেফতার করতে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!

Loading...
Open