দক্ষিণ সুরমায় পুলিশের সহযোগীতায় ছিনতাই এর চেষ্টার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: ছিনতাইকারীদের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক হুমায়ূন আহমদ। গত সোমবার (৯ই অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে এ ঘটনাটি ঘটে।

তবে ব্যবসায়ী হুমায়ুনকে অপহরণ না ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছিলো, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তার সাহসী ভূমিকার কারণে ছিনতাইকারীদের মধ্যে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আটকের পর ছিনতাইকারীদের একজন আবু মিয়ার (২৫) মোবাইল ফোনের কল লিস্ট চেক করে এক পুলিশ সদস্যের সাথে কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া যায়। ব্যবসায়ী হুমায়ূন আহমদ ও স্থানীয়রা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্যবসায়ী হুমায়ূন জানিয়েছেন- মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা তাকে ‘ডাকাত’ বলে তাড়িয়ে নিয়ে আসে। পরে তিনি তাঁর নিজের মালিকানাধীন দিবা-রাত্রি ফিলিং স্টেশনের ঢুকে পড়েন। মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা ফিলিং স্টেশনে ঢুকে হুমায়ূনকে ‘ডাকাত’ বলে চিহ্নিত করতে চায়। এসময় তিনি এক ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আরোও ২ ছিনতাইকারীকে আটক করে।

এ সময় খুলনা মেট্রো নাম্বার প্লেইট লাগানো একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। তাদের সহযোগী অন্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া একটি বিশেষ মহল আটকৃতদেরকে ছাড়িয়ে নিতে বিভিন্ন রকমের তৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আটককৃতরা হচ্ছেন দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বলদী গ্রামের আবু মিয়া (২৫), আব্দুল হক (২৩) ও সানজিদ (২০)। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল (খুলনা মেট্রো ল -১১-২১৫৩) থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। এদিকে ওই ছিনতাইকারীদের সহযোগী হিসেবে এক পুলিশ সদস্যদের নাম আলোচিত হচ্ছে। ব্যবসায়ী হুমায়ূন আহমদ নিজে এই অভিযোগ করেছেন। মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। কোন পুলিশ সদস্য ছিনতাইকারীদের সহযোগিতা করে থাকলে অবশ্যই তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এমন মন্তব্য করেছেন মহানগর পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানাগেছে- ঐরাতে শিল্পপতি হুমায়ূন আহমদের প্রায় ৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় একটি ছিনতাইকারী দল। স্থানীয়রা ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ব্যবসায়ী হুমায়ুন আহমদ বলেন- ‘গত সোমবার রাতে ১ টার দিকে তেলিবাজার হাজী মনজু মিয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হাইওয়ে রোডে উঠার পর তার গাড়ির পিছু নেয় ২টি মোটরসাইকেল। তিনি দ্রুত চণ্ডিপুল আসলে রাস্তার অপর দিক থেকে ২ জন যুবক ডাকাত বলে চিৎকার করে তার গাড়ির দিকে আসতে থাকে। এরপর তিনি দ্রুত পাম্পে প্রবেশ পেছনে ধাওয়া করা মোটরসেইকেল দিয়েও কয়েকজন ছিনতাইকারী পাম্পে এসে তার সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু করে।’

তিনি আরও জানান- ‘ছিনতাইকারীদের সহযোগী হিসেবে এক পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। আটক তিন জনের একজন আবু মিয়া এক পুলিশ সদস্যের সাথে রাত ১১টার পর থেকে অনেকবার কথা বলেছে। যা আটকের পর আবুর মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করে ধরা পড়ে। এমনকি আবুর মোবাইল থেকে ওই সময় এক কনস্টেবলের ফোনে কল করেও সত্যতা পাওয়া যায়। পরে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলসহ ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।’

সিলেট সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন- ‘পুলিশের সহযোগীতায় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা টাকা নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আটক ছিনতাইকারী আবুর সাথে এক পুলিশ কনস্টেবলের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে। যা আটকের পর সত্যতা পাওয়া যায়। যদি পুলিশের বিরদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে আমরা আন্দোলনে নামবো।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মূসা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- ‘ব্যবসায়ীদের মামলা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তারা কোন মামলা করেননি। তবে তাদের দেয়া মৌখিক অভিযোগটি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কোন পুলিশ সদস্য এই ঘটনায় জড়িত থাকলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে আটককৃতদেরও চালান দেয়া হয়েছে।’

Sharing is caring!

Loading...
Open