ওসমানীনগরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ পন্ডু

নিজস্ব প্রতিনিধি:; সিলেটের ওসমানীনগরে বর আসার আগেই বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিল পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাদীপুর ইউপির চাতলপাড় গ্রামে এই বাল্য বিবাহ বন্ধ করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদীপুর ইউপির সম্মানপুর গ্রামের চুনু মিয়ার ছেলে নাজমুল মিয়া (১৫) সাথে একই ইউপির সুন্দকলা গ্রামের তুরন মিয়ার মেয়ে রহতমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী লালনিনা বেগমের বিয়ে ঠিক হয়। বর ও কনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় গোপনে উভয় পরিবারের অভিবাবকরা বিয়ের তারিখ ও স্থান ঠিক করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার কনে লালনিনা বেগমের নানা সাদীপুর ইউপির চাতলপাড় গ্রামের সত্তার মিয়া সত্তইয়ের বাড়িতে লালনিনাকে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করে বর আগমনের অপেক্ষায় ছিল কনে পক্ষ। ঠিক তৎক্ষনাত বালবিবাহের বিষয়টি চাউর হয়ে যায় পুরো এলাকা জুরে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে গতকাল বুধবার দুপুরে লালনিনার নানার বাড়ি চাতলপাড়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা, এসআই তোফাজ্জল হোসেন এক দল পুলিশ সাথে নিয়ে উপস্থিত হন আর বাধ সাধেন বিয়েতে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে পুলিশি হানার খবর পেয়ে বর পক্ষ আসেনি। পরে কনে লালনিনা বেগম ও তার পিতা তুরন মিয়া বিয়ে না দেয়ার শর্তে পুলিশের নিকট লিখিত অঙ্গিকার প্রদান করলে পুলিশ বাল্যবিবাহ বন্ধ করে চলে আসে।

সাদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব তার ইউপিতে বাল্যবিবাহ বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেয়।

ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা বলেন, বাল্যবিবাহ হবার খবর শুনে আমি বিয়ে স্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে লালনিনার পিতার নিকট থেকে লিখিত অঙ্গিকার নিয়ে আসি।

Sharing is caring!

Loading...
Open