সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ‘যমুনা স্টার সেভ গার্ড’র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ


সুরমা টাইমস ডেস্ক: সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলছে দেদারছে চাঁদাবাজি। যমুনা স্টার সেভ গার্ড নামের একটি কোম্পানী তার কর্মচারীদের মাধ্যমে রোগী-এটেন্ডেন্ট ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে চলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে- সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কোম্পানীকে এক বৎসর মেয়াদে টেন্ডার দেয়া হয়ে থাকে। কোম্পানী তার বেতনভুক্ত লোক দিয়ে কাজ পরিচালনা করে হাসপাতাল থেকে নির্ধারিত বিল আদায় করে থাকে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ‘যমুনা স্টার সেভ গার্ড’ নামের এক কোম্পানীকে এক বৎসর মেয়াদে কজের টেন্ডার দেয়া হয়। কোম্পানীর মালিক ও পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লার এক ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি। জাহাঙ্গীর আলম ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সিকিউরিটি গার্ড পরিচ্ছন্নকর্মীসহ বিভিন্ন কাজে প্রায় ১৮০জন পুরুষ ও মহিলা নিয়োগ দেন। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের পর থেকে গত ১১ মাস যাবত কোন কর্মচারীকে বেতন-ভাতা প্রদান করেন নি কোম্পানীর পরিচালক জাহাঙ্গীর। সামান্য ভুল-ত্রুটি হলেই কর্তব্যে অবহেলার অজুহাত দেখিয়ে বেতন-ভাতা না দিয়েই কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করে দেয়া হয়ে থাকে।
অভিযোগে প্রকাশ, ‘যমুনা স্টার সেভগার্ড’-এর পরিচালক জাহাঙ্গীর বেতন-ভাতা না দিয়েই হাসপাতালে নিয়োগকৃত তার কর্মচারীদের কাছ থেকে উল্টো সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক বখরা আদায় করে থাকেন। আর কর্মচারীরা ওই টাকা হাসপাতালের রোগী, এটেন্ডেন্ট ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে চাাঁদা ও বখশিশ হিসেবে আদায় করে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে- কোম্পানীর মালিক পরিচালক জাহাঙ্গীর প্রতি ১০দিন পর পর মেডিসিন ওয়ার্ডে তার নিয়োজিত কর্মচারীদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৫’শ টাকা, লেবার ওয়াডের্র জনপ্রতি কর্মচারীর কাছ থেকে ১৫’শ টাকা, গাইনিতে কর্মরত কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫’শ টাকা, প্রতি প্রবেশ গেইটে দিনে ৩ শিফটে সিকিউরিটি প্রতি ২’শ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকেন। বৎসর শেষে প্রত্যেক কর্মচারীকে ২২’শ ৮০ টাকা করে দিতে হয় ওই কোম্পানীর মালিক জাহাঙ্গীরকে। জাহাঙ্গীর তার সহযোগী জসিম ও শামসুজ্জামানের মাধ্যমে এ টাকা সংগ্রহ করে থাকেন। তাইতো দেখা যায় প্রতিটি ওয়ার্ড এবং প্রতিটি বিভাগে ‘যমুনা স্টার সেভ গার্ড’- নিয়োজিত কর্মচারী টাকা বা বখশিশ ছাড়া কোন কাজই করে না। রোগী বহনকারী একটি ট্রেচার বা হুইল চেয়ার নিতে হলেও যমুনা কর্মচারীদেরকে ৫০ থেকে ১০০টাকা করে দিতে হয়। নতুবা তারা ট্রেচার ও চেয়ার লুকিয়ে রেখে দেয়। লিফটে চড়ে উপরে উঠতে হলে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০টাকা করে দিতে হয়। হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশ গেইটে নিয়োজিত কর্মচারীদের দর্শনার্থী ও এটেন্ডেন্টদের জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিয়ে উঠতে ও প্রবেশ করতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের এটেন্ডেন্টদের নিয়মিত পাসকার্ড দেয়া হয় না, ফলে রোগীর নির্ধারিত এটেন্ডেন্টকেও দিতে হয় প্রবেশ টাকা। এ ভাবে জাহাঙ্গীর তার দুইশ’ কর্মচারী দিয়ে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে চলেছেন। এবছরের জুন মাসে যমুনা স্টার সেভগার্ড কোম্পানীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু জাহাঙ্গীর গত ৩ মাস যাবত অবৈধভাবে হাসপাতালের কাজ ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।

অভিযোগের ব্যাপারে যমুনা স্টার সেভগার্ড কোম্পানীর ডাইরেক্টর জাহাঙ্গীর আলম-এর সাথে মোবাইলফোনে (০১৭১২৪৭৫৫১২) কথা হলে তিনি জানান- সিলেট ওসমানী হাসপাতালে তার ১৮০জন কর্মচারী কর্মরত আছে। এদের মধ্যে ১৩০জনকে তিনি নিয়মিত বেতন দিয়ে থাকেন এবং বাকি সিকিউরিটি গার্ডদের কোন বেতন-ভাতা দিতে হয় না । তারা রোগী-দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ‘উপরি রোজগার’ করে থাকে।

তিনি আরো জানান- হাসপাতাল থেকে কর্মচারী প্রতি মাসে ১২শ’ টাকা করে পেয়ে থাকেন। এ টাকা দিয়ে সকলের বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হয় না। তাই অনেক কর্মচারীকে বিনা বেতনে ‘উপরি’ টাকার উপর কাজ করতে হয়। তবে কর্মচারীদের কাছ থেকে উল্টো বখরা বা চাঁদা আদায়ের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক একেএম মাহবুবুল হক এর সাথে আলাপকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান- ১৮০ জন কর্মচারী বেতন সঠিক পায়নি এমন তথ্য আমাকে কেউ এখনও পর্যন্ত জানায়নি। জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ১৮০ জন কর্মচারীর চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হলে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে। তাই যথাসম্ভব এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Open