স্বজন হারানোর বেদনা আমরা বুঝি-উখিয়ায় প্রধানমন্ত্রী

সুরমা টাইমস ডেস্ক:: কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ক্যাম্পে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। রোহিঙ্গাদের কষ্টের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগে নারী-শিশুদের জড়িয়ে ধরেন। পরম মমতায় প্রধানমন্ত্রী তাদের বুকে টেনে নেন। আশ্রয় নেওয়া অসহায় রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে দুঃখ কষ্টের কথা বলেন। একজন দোভাষি পারস্পরিক কথাবার্তায় সহযোগিতা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজন হারানোর বেদনা আমরা বুঝি। ১৯৭৫-এ বাবা-মা হারিয়ে আমাদেরও রিফিউজি হিসেবে বিদেশে থাকতে হয়েছে। ১৯৭১-এ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর এভাবেই অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। পাক হানাদার বাহিনী আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল, আমাদের দেশের মানুষকেও ভারতে আশয় নিতে হয়েছিল।
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ২৪শে আগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ পোস্ট ও সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে রোহিঙ্গাদের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) হামলার কথা তুল ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক ঘটনা ঘটাল, তারপর সেখান থেকে তারা চলে গেল, এরপর সেখানে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার শুরু হলো। কিছু মানুষ ঘটনা ঘটায়, তারা তো ঘটিয়ে চলে যায় কিন্তু ভুক্তভোগী হয় কারা? শিশু-নারী, একেবারে নিরীহ মানুষ।

মিয়ানমার সরকারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকারকে বলব তারা যেন নিরীহ মানুষের ওপর কোনোরকম নির্যাতন না করে। নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। যারা প্রকৃত দোষী তাদের খুঁজে বের করুন, এ ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যে সহযোগিতা দরকার, আমরা তা করব। সন্ত্রাসী কার্যক্রম আমরা কখনোই মেনে নেব না। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ১৯০৯ ফ্লাইটটি। সেখান থেকে সড়কপথে উখিয়ার কুতুপালংয়ে পৌঁছান তিনি।

Open