সরকারী কোন কাগজপত্রে টিপসহি গ্রহণযোগ্য হবে না-রাহাত আনোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারী কোন কাগজপত্রে টিপসহি গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশে স্বাক্ষরতার হার বাড়ছে। অনেক মানুষ এখন স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। এরপরও সরকারী বিভিন্ন কাগজপত্রে দেখা যায় টিপসহি। তাই এখন থেকে সরকারী কোন কাগজপত্রে টিপসহি গ্রহণযোগ্য হবে না। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে স্বাক্ষরজ্ঞান মানুষ থাকা সত্ত্বেও সেসব মানুষের যখন টিপসহি নেয়া হয় তখন তা খুবই দুঃখজনক। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সকলে এগিয়ে আসতে হবে। কিছুদিন আগে সিলেটের সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমরা ১৫ হাজার তালের গাছ রোপন করেছি। তাল গাছ বজ্র নিরোধক হিসেবে কাজ করে। আমাদের পূর্বপুরুষরা তাল গাছ লাগিয়েছেন। যারা আমাদের এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন আমি সকলে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষকরা জাতির সম্পদ। তারা দেশের আলো ফুটাচ্ছেন। আমার পিতা-মাতা ছিলেন শিক্ষক। তাই আমি নিজেকে শিক্ষক পরিবারের বলে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী এদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সকলে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আজ শিক্ষার প্রতি বৈষম্য দূর হয়েছে। ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষার মান আর দক্ষিণ সুরমার স্কুলের শিক্ষার মান একই। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশের প্রতি নজর দেওয়ার শিক্ষাও দিতে হবে। পরিবেশের বিরুপ আচরণের জন্য আমরা দায়ী। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা পরিবেশ বান্ধব হয়। তারা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদে জড়িত না হয়।
সভাপতির বক্তব্যে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ মোস্তফা বলেন, দক্ষিণ সুরমায় এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো’র বিভিন্ন অবকাঠামো মেরামত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রকল্পে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা চান রাস্তাঘাট মেরামত। তাদের বলেছি, রাস্তাঘাট হবে কিন্তু সন্তানদের যদি পড়ালেখার পরিবেশ সঠিক ভাবে না গড়া যায় তবে আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকার হবে। তাই তাদের সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে বর্তমান প্রকল্প শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে। উপজেলায় একটি ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাব গঠন করা হয়েছে। আমরা সপ্তাহে দুইদিন ক্লাবে বসি। সকলে এই ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সরকারী বিভিন্ন কাজে জনগণের সম্পৃক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দক্ষিণ সুরমা ফাউন্ডেশন গঠনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেটে জন্মহার বেশি। পুত্র সন্তানের আশায় একেকটি পরিবারে ৪/৬ টি পর্যন্ত ছেলেমেয়ে দেখা যায়। মা সমাবেশে জন্মহার হ্রাস করার জন্য আলোচনা করতে হবে। সকলে এইসব বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অডিটোরিয়ামে অনুষ্টিত এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সহকারী জেলা প্রশাসক সৈয়দ মুহাম্মদ আমিনুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাংবাদিক আল আজাদ প্রমুখ।
অনুষ্টান শেষে খালোরমুখ বাজারস্থ পূর্বভাগ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার।

Open